সিনে সমাচার

প্রতিবাদে সরব চলচ্চিত্রাঙ্গন 

  সিনেঘর ওয়েব দল

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
ঋত্বিক কুমার ঘটক। ছবি: সংগৃহীত

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈতৃক ভিটার একটি অংশ ভাঙার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষ ও চলচ্চিত্রকর্মী ও সংগঠনগুলো। এবার ১২ জন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। মানববন্ধন ও স্মারকলিপী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশে।

ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি বেলায়াত হোসেন মামুন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে দুটি কর্মসূচী ঘোষণা করেন। স্ট্যাটাসে লেখা হয়-

সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে আমরা দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

১। উপমহাদেশের বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈত্রিক ভিটা উদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবিতে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, বিকাল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে চলচ্চিত্র সংসদকর্মী, চলচ্চিত্রকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধনের মানববন্ধন করা হবে।

২। আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, সকাল ১১টায় উপমহাদেশের কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার মসূয়া গ্রামে অবস্থিত পৈত্রিক বাড়ী, ঋত্বিক কুমার ঘটকের রাজশাহী শহরের মিঞাপাড়ায় অবস্থিত পৈত্রিক বাড়ি এবং ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিতে অবস্থিত মৃণাল সেনের পৈত্রিক ভিটা ও স্মৃতি স্থাপনা উদ্ধার এবং সংরক্ষণের দাবিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান।
আমরা আশা করি আমাদের এই কর্মসূচিতে আপনার অংশগ্রহণ আমাদের ইতিহাস সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া গত ২৪ ডিসেম্বর দেশের ১২ জন গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি যৌথ বিবৃতি দেন গণমাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রকারেরা হলেন- নাসির উদ্দীন ইউসুফ, তানভীর মোকাম্মেল, মানজারে হাসীন মুরাদ, মোরশেদুল ইসলাম, এনায়েত করিম বাবুল, জাহিদুর রহিম অঞ্জন, শামীম আক্তার, নূরুল আলম আতিক, এন রাশেদ চৌধুরী, ফওজিয়া খান, আকরাম খান ও রাকিবুল হাসান।

বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসানের পাঠানো ওই যৌথ বিবৃতিটি নিম্নে তুলে ধরা হলো-

বিশ্ববরেণ্য বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি রাজশাহীর মিঞাপাড়ার ভবনটি ভেঙে ফেলার ঘৃণ্য উদ্যোগকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে একটি ঋত্বিক চলচ্চিত্র কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা দেশের চলচ্চিত্রকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু সামরিক শাসন এবং স্বৈরশাসনকালে সে স্থানে একটি হোমিওপ্যাথি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাজশাহীর ঋত্বিক চলচ্চিত্র সংসদ কর্মীরা সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কাছে ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে একটি চলচ্চিত্র কেন্দ্র করার জন্য দাবিপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। কিন্তু বিগত তিন বছরে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) কলেজ কর্তৃপক্ষ সাইকেল স্ট্যান্ড করার অজুহাতে ভবনের একটি অংশ গুঁড়িয়ে দেয়।

আমরা এ হীন কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি আজ (২৪ ডিসেম্বর) সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের গোচরে এলে তিনি দ্রুত জেলা প্রশাসককে ভাঙার কাজ স্থগিত করতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। নির্দেশমতো ভাঙার কাজ স্থগিত হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি এটা সাময়িক ব্যবস্থা।

বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা নির্মাণে ঋত্বিক ঘটক একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি আমাদের এই বাংলাদেশে জন্মেছিলেন এ তো আমাদের শ্লাঘার বিষয়।

আমরা অনতিবিলম্বে ঋত্বিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং আমাদের চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক ভবনটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ বিদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গে একটি ভিন্নমাত্রার চলচ্চিত্র আন্দোলন এই প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে। আর এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আমাদের জোর দাবি, হোমিওপ্যাথি কলেজটি ভিন্ন একটি স্থানে স্থানান্তর করে ঋত্বিক চলচ্চিত্র কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হোক। অস্থায়ী সাইকেল গ্যারেজ করছে রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমন খবরে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক কর্মীরা।





আরও দেখুন

 খুঁজুন