চলচ্চিত্র: অজ্ঞাতনামা
পরিচালক: তৌকির আহমেদ
কলাকুশলী: শহীদুজ্জামান সেলিম, মোশাররফ করিম, নিপুণ আক্তার, ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ
দেশ: বাংলাদেশ
সাল: ২০১৬
গল্প সংক্ষেপ
এক বৃদ্ধ তার নাতীকে নিয়ে বাজার থেকে ফিরছে। ফেরার পথে তারা একটি মরা পাখিতে মাটিতে পুতে দেয়। শেফালীর বাড়িতে এসে তার স্বামী খোঁজ করে বিউটি। শেফালী বারবার তার স্বামীর খোঁজ নিতে আসা বিউটির উপর বিরক্ত। প্রথম দৃশ্যের সেই বৃদ্ধ কিফায়েত উদ্দিনও, শেফালীর শ্বশুর, বিউটির উপর বিরক্ত। সে বিউটিকে তার বাড়িতে আসতে বারণ করে দেয়। বিউটির বাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তা ফরহাদ তার বিদেশ যাওয়ার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ব্যাপারে জানাতে আসে। সেই সময়ে বিউটির বিদেশে যেতে সহায়তাকারী রমজান দালাল তার বাড়িতে আসে। ফরহাদ খাটের নিচে লুকিয়ে যায় এবং পরে ফোন আসা ও কাশি দেওয়ার পর রমজান ঘরে ফরহাদের উপস্থিতি ঠের পায়। বিউটির তাকে তার খালাত ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং কথা বলার মাঝে ফরহাদ দৌড়ে পালিয়ে যায়।
কালুখালী থানার ওসি এম এ কুদ্দুস থানায় এসে দেখে সেখানকার কর্তব্যরত কর্মকর্তা নেই। সেই সময়ে থানায় ফোন আসে। কুদ্দুস ফোন ধরে এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তা ফরহাদকে ডেকে পাঠাতে বলে। কিন্তু ফরহাদকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুজির পর ফরহাদ আসলে কুদ্দুস জানায় যে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে ফোন এসেছে যে মধ্য প্রাচ্য থেকে একটি লাশ এসেছে যা চোপগাছা গ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। বৃষ্টির রাতে কুদ্দুস, ফরহাদ ও আরও দুজন কর্মকর্তা লাশ নিয়ে সেই গ্রামে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন মৃত্য ব্যক্তির যে নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেই শেখ আব্দুল ওয়াহাব জীবিত আছেন। ওয়াহাবের সাথে ফোনে কথা বলে জানা যায় এই গোলমালের পিছনে রয়েছে রমাজান দালাল। রমজানকে ডেকে আনার পর তার কাছ থেকে জানা যায় ওয়াহাবের পাসপোর্ট রমজান কিফায়েত উদ্দিনের ছেলে আসির উদ্দিনের প্রামাণিকের কাছে স্বল্প টাকায় বিক্রি করে। সেই আসির উদ্দিন মারা গেছে।
আসিরের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে তার মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিফায়েত, তার ভাতিজা রহমান ও রমজান ঢাকা গিয়ে লাশ গ্রহণ করবে। ওসি কুদ্দুস তাদের বলে দেয় সেখানে নাম সংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে আসিরের স্থলে ওয়াহাব বলার জন্য। পরের দিন ট্রাক নিয়ে তারা ঢাকা যায় লাশ গ্রহণ করতে। সেখানে কিফায়েত আসির উদ্দিন বলে কান্নাকাটি করলে কাস্টমস অফিসার গোলমালের ব্যাপারটা ধরতে পারলে সেখানে ঘুষ দিয়ে ছাড়িয়ে আনা হয়। বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করতে গিয়ে দেখা যায় এটা আসিরেরও লাশ না। অন্য কারো লাশ। লাশ নিয়ে আবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কুদ্দুস তাদেরকে লাশ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যেতে বলে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লাশ নিয়ে গেলে সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বারডেম, ও অবশেষে বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কোন সুরাহা না করতে পেরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিকই এই লাশের দায়িত্ব নিবে এবং তাকে দাফন করবে।
মূল কলাকুশলী
পরিচালক তৌকির আহমেদ
প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর
চিত্রনাট্যকার তৌকির আহমেদ
কাহিনীকার তৌকির আহমেদ
সুরকার পিন্টু ঘোষ
চিত্রগ্রাহক এনামুল হক সোহেল
সম্পাদক অমিত দেবনাথ
পরিবেশক ইমপ্রেস টেলিফিল্ম
অভিনয়শিল্পী
শহীদুজ্জামান সেলিম – রমজান আলী, আদম ব্যবসায়ী
মোশাররফ করিম – ফরহাদ, পুলিশ কর্মকর্তা[১০]
নিপুণ আক্তার – বিউটি, বিদেশ গমনে ইচ্ছুক বিধবা[১১]
ফজলুর রহমান বাবু – কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিক, বিদেশে নাম-পিতৃপরিচয় গোপন করে বিদেশ যাওয়া আসির উদ্দিন প্রামাণিকের বাবা[১১]
শতাব্দী ওয়াদুদ – এম এ কুদ্দুস, কালুখালী থানার ওসি
আবুল হায়াত – শেখ আব্দুল হাকিম, শেখ আব্দুল ওয়াহাবের বাবা
শাহেদ শরীফ খান – শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, শেখ আব্দুল হাকিমের ছেলে
শাহেদ আলী – রহমান, কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিকের ভাতিজা
রোবেনা রেজা জুঁই – শেফালী, আসিরের স্ত্রী
জিয়াউল হক কিসলু – জালাল মেম্বার
নাজমুল হুদা বাচ্চু – বিউটির নানা
মোমেনা চৌধুরী – কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিকের স্ত্রী
পারভীন কনা – রমজান আলীর স্ত্রী
ইকবাল বাবু – জাহাঙ্গীর মোল্লা, ট্রাক ড্রাইভার
নূর এ আলম নয়ন – প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্তব্যরত ব্যক্তি
কাজী উজ্জ্বল – স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কর্তব্যরত ব্যক্তি
রণজিৎ চক্রবর্তী – রণজিৎ
পুরস্কার
জুরি স্পেশাল মেনশন পুরস্কার (গালফ অব নেপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল,রিলিজিয়ন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল,ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব )
শ্রেষ্ঠ পরিচালক (কসভো চলচ্চিত্র উৎসব,সিয়াটল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল,মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার,বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব)
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য (কসভো চলচ্চিত্র উৎসব,সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব)
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার,বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব,জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার)
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা (মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার)
শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার)
খলচরিত্রে অভিনেতা (জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার)
সঙ্গীত
অজ্ঞাতনামা ছায়াছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন পিন্টু ঘোষ। গীত রচনা করেছেন তৌকির আহমেদ। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রোকন ইমন, সুকন্যা মজুমদার ও পিন্টু ঘোষ।
মুক্তি
অজ্ঞাতনামা ছায়াছবিটির প্রিমিয়ার হয় কান চলচ্চিত্র উৎসব-এর বাণিজ্যিক শাখায় ১৭ মে, ২০১৬। বাংলাদেশে ছায়াছবিটি মুক্তি পায় ১৯ আগস্ট, ২০১৬। বাংলাদেশে মুক্তির পর একই বছর ছবিটি ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কসোভোর চলচ্চিত্র উৎসব দ্য গডেস অন দ্য থ্রোনে, ৭ থেকে ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইতালির রিলিজিয়ন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে, ১৫ থেকে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির সিয়াটল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এবং ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর রকভেলের ডিসি সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়। ২০১৭ সালে ছবিটি ২১ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইরানের ৩৫তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবং জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত কম্বোডিয়ার ৫৭তম এশিয়া প্যাসিফিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।