অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও পরিচালক, ভারত
থাগস অব হিন্দোস্তান (২০১৮), দঙ্গল (২০১৬), পিকে (২০১৪), ধুম থ্রি (২০১৩), তালাশ (২০১২), ৩ ইডিয়টস (২০০৯), গজনি (২০০৮), তারে জমিন পার (২০০৭), ফানা (২০০৬), রং দে বাসন্তি (২০০৬), দিল চাহতা হ্যায় (২০০১), লগান (২০০১)।
আমির খান ভারতীয় অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক। তাকে মি. পারফেকশনিস্ট বলা হয়। টম হ্যাংকস অব ইন্ডিয়া নামেও পরিচিত। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। আর সিরিয়াস চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি মি. পারফেকশনিস্ট হয়ে উঠেন। বলিউডের বক্স অফিস থেকে সিরিয়াস চলচ্চিত্র সব জায়গায়ই আমির খান শীর্ষে।

প্রাথমিক জীবন
১৯৬৫ সালের ১৪ মার্চ আমির খানের জন্ম। তাঁর পরিবার বলিউডের চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত। আমির খানের বাবা তাহির হুসাইন ছিলেন বলিউডের প্রযোজক। একই সময়ে তাঁর চাচা নাসির হুসাইন ছিলেন বিখ্যাত প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী। যদিও তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষেরা এসেছেন আফগানিস্তানের হেরাত থেকে। ভারতের বিখ্যাত মনীষী মওলানা আবুল কালাম আজাদ আমির খানের পূর্বপুরুষ।

ক্যারিয়ারের শুরু
১৯৭৩ সালে ইয়াদোন কি বরাত সিনেমাতে শিশুশিল্পী হিসেবে আমিরের অভিনয় যাত্রা শুরু। এটি প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন তাঁর চাচা নাসির হুসাইন। এরপর তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে মাধোশ সিনেমাতেও কাজ করেন। পেশাদার অভিনেতা হিসেবে তাঁর অভিষেক ঘটে কেতন মেহতার চলচ্চিত্র হোলিতে। যদিও এতে আমিরের চরিত্রটি ছিল গৌণ।

১৯৮৮ সালে কেয়ামত সে কেয়ামত তক সিনেমায় অভিনয় করেন। এই সিনেমাটি আমিরের জনপ্রিয়তার দুয়ার খুলে দেয় যেন। ছবিটির পরিচালক মানসুর খান। তিনি আমিরের চাচাত ভাই ও নাসির হুসেইনের ছেলে। আমির এই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। এবং জাতীয় পুরস্কার জিতে নেন। এই ছবি সেই সময়ে বক্স অফিসে ঝড় তোলে। আমিরের ক্যারিয়ারের পালেও সাফল্যের হাওয়া লাগিয়ে দেয়। পরের বছর রাখ ছবিটিও বেশ আলোচনায় আসে। তবে কেয়ামত সে কেয়ামত তককে ছাড়াতে পারেনি। এই ছবিতেও আমির স্পেশাল জুরি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন। এই ছবির মাধ্যমে আমির হিন্দি ছবির চকলেট হিরো হিসেবে জনপ্রিয় হন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমির খানকে। আশি ও নব্বই দশকে উপহার দেন বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। দিল, জো জিতে হো সিকান্দার, দিল হ্যায় কে মানতা নেহি, রঙ্গিলা, হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে উল্লেখযোগ্য। আমির এর মধ্যে চিত্রনাট্য লেখায় মনযোগ দেন। তিনি হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে ছবির চিত্রনাট্যও লেখেন। তিনি প্রথমবারের মতো ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান রাজা হিন্দুস্তানি ছবিতে অভিনয়ের জন্য। পরে ২০০১ সালে লগান ছবির জন্যও তিনি এই পুরস্কার পান। ছবিটি ভারত থেকে ওই বছর অস্কারে পাঠানো হয়। ছবিটি বিদেশি ভাষা শাখায় মনোনীতও হয়। এই ছবির মাধ্যমে আমিরের প্রযোজক হিসেবেও হাতে খড়ি হয়।

তার বেশিরভাগ চলিচ্চিত্রই বাণিজ্যিকভাবে সফল। তার চলচ্চিত্র আন্দাজ আপনা আপনা-তে আরেক বলিউড তারকা সালমান খান অভিনয় করেছিলেন। যদিও চলচ্চিত্রটি খুব একটা আলোচনায় আসতে পারেনি। তবে এটি ভারতে কাল্ট মুভি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

লগান সিনেমার পরে পাঁচ বছর অভিনয়ে বিরতি দেন আমির খান। এরপর ২০০৫ সালে তিনি করেন মঙ্গল পান্ডে সিনেমাটি। পরের বছর করেন রং দে বাসন্তি সিনেমাটি। এই সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান তিনি।

২০০৭ সালে তারে জমিন পার দিয়ে পরিচালনায় হাতে খড়ি হয় আমিরের। সেরা পরিচালক হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার জেতেন। পরের বছর করেন গজনি সিনেমা। ঠিক পরের বছরই ইতিহাস গড়েন আমির। ৩ ইডিয়টস ছবি দিয়ে সাড়া জাগিয়ে ফেলেন তিনি। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি স্থান করে নেয়। এরপর আমির তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেও বেশ কিছু সিনেমা তৈরি করেন। যেগুলো খুব একটা আলোচনায় আসেনি। পিপলি লাইভ, ধোবি ঘাট, দিল্লি বেলি, সিক্রেট সুপারস্টার উল্লেখযোগ্য। এরপরে আমির একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমাতে অভিনয় করেন। ধুম ৩, পিকে, দঙ্গল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও তার ইশক, গুলাম, সারফারোশ, দিল চাহতা হ্যায়, ফানা চলচ্চিত্রগুলো উল্লেখযোগ্য। সবশেষ আমিরকে দেখা যাবে থাগস অব হিন্দোস্তান চলচ্চিত্রে। প্রথমবারের মতো এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এক পর্দায় দেখা যাবে বলিউডের দুই তারকা আমির খান ও অমিতাভ বচ্চনকে।
চলচ্চিত্রে অভিনয় ছাড়া টেলিভিশনে আমির খানকে খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর সত্যমেভ জয়তে টিভি অনুষ্ঠানটি ভারতে বেশ জনপ্রিয় ও প্রভাববিস্তারকারী।

ব্যক্তিগত জীবন
আমির খানের বাবার নাম তাহির হুসাইন। মায়ের নাম জিনাত হুসাইন। বলিউডের আরেক নায়ক ইমরান খান তার বোনের ছেলে। আমির দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর নাম রিনা দত্ত। রিনার ঘরে আমিরের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের নাম ইরা ও ছেলের নাম জুনাইদ। ২০০২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ২০০৫ সালে আমির কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। কিরণ লগান ছবিতে সহকারী পরিচালক ছিলেন। ২০১১ সালে তাদের ঘরে আসে ছেলে আজাদ রাও খান।

আমির চলচ্চিত্র ও অন্যান্য অনেক পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি ভারতের পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পদক পেয়েছেন।