নাম: সানি লিওন
জন্মস্থান: সার্নিয়া, অন্টারিও, কানাডা
জন্ম: ১৩ মে, ১৯৮১
পেশা: অভিনয়শিল্পী
কারাণজিত কাউর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব সানি লিওন দিয়ে নিজের অতীতকে দেখতে কি খারাপ লাগছে?
অনেক মানুষই মনে করছে আমার জীবনকে দেখানো নিশ্চয়ই লোভাতুর হবে। কিন্তু এটা না। আপনি আপনার বাবা মা মারা যাওয়ার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু জীবনকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আপনি সম্পূর্ণরূপে আপনার জীবনে ফিরে আসতে পারেননি। আপনি কেবল একটা গতিশীল জীবন যাপন করার চেষ্টা করছেন। যারা বলে, চিন্তা কর না। সময় সবকিছু ঠিক করে দেবে। আমি তাদের বলতে চাই, তুমি আঙুল চোষ। সময় কিছু ঠিক করে দেয় না। এখনো আমি কষ্ট পাই। আমি এখনো কষ্ট পাই যে, এখানে আমাদের বাবা মা নেই। সবাইকেই এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।
এখানে সিনেমা করে কি আপনি খুশি?
আমি ভালো গল্পের সিনেমা করতে চাই। আমি নির্দিষ্ট কোনো ধারার সিনেমার পক্ষপাতী না। সবচেয়ে বড় কথা হলো সঠিক লোকটাকে খুঁজে বের করা। আমি আগে অনেক লোকের সঙ্গে কাজ করেছি। তারা আমাকে আকাশ বাতাস কতকিছু বুঝিয়েছে, কিন্তু একটা ভালো কিছু তৈরি করতে পারেনি। আমার কিছু কিছু সিনেমা দেখে আমি বিরক্ত। এটা আমাকে সত্যিই বিব্রত করে। কারণ আমি আমার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছি। আমি কর্মশালা করেছি, অভিনয় শিখেছি…কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে আমি একটা গাধা, যে আগে আগেই অনেক বেশি শোআপ করে ফেলেছে। এখন আমি সময় নিতে চাই। এবং বুঝে নিতে চাই লোকজন যা বলে তা করতে পারে কি-না।
লোকজন আপনাকে নিয়ে সবসময়ই ট্রল বানায়। আপনি কি এতে বিরক্ত হন?
লোকজন করলে আমার খুব একটা লাগে না। কিন্তু যখন দেখি গণমাধ্যম এই সব ফালতু বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় তখন খুব খারাপ লাগে। যেমন গণমাধ্যমে একবার বলা হলো, নিউ ইয়ার্স এভ এ ব্যাঙ্গালোরে আমার পারফরম ঠেকাতে বড় ধরনের সুইসাইড করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা জানি এটা একদমই বাকওয়াজ একটা ব্যাপার। কেউ এটা করতে যাবে না। এর দুই সপ্তাহ পরেই এক ছেলে একটা ভিডিও ছাড়ল, সেখানে সে বলল, যদি সানি আমাদের এখানে আসতে চায়, তাহলে আমরা তাকে রক্ষা করব। এটা আসলে কী বুঝায়। এটা কি গণমাধ্যমের সুসাংবাদিকতা। এগুলো আমাকে ব্যথা দেয়। কিন্তু এখন আমি বেশ শক্ত।
কীভাবে আপনি এই সব ব্যাপারে নিজেকে শান্ত রাখেন?
বেশিরভাগ সময় আমি এইসব ফালতু জিনিস এড়িয়ে চলি। এইসব লোকজন সম্ভবত ব্যক্তিগতভাবে অসুখী। যে কারণে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিকৃত মানসিকতা প্রকাশ করে। আমি এগুলোর সঙ্গে কখনোই নিজেকে যুক্ত করি না। যদি এটা কোনো বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে আসে তাহলে আমার খুব খারাপ লাগে। এটা তখনই ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় যখন কেবল আপনার পরিবার বা কাছের মানুষদেরকে এইসব নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এটা একবার হয়েছিল। একবার কেউ আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাজে কিছু লেখে। এটা বেশ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর টুইটার অনুসারীরা আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া শুরু করা।

আপনি নিজের সন্তান নেওয়ার আগেই একটি মেয়ে দত্তক নিয়েছিলেন
ডেনিয়েল ও আমি সবসময় সেন্ট ক্যাথেরিনস এতিমখানায় দান করি। একদিন সেখানে গেলে এই বাচ্চাটির সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। ও খুবই মিষ্টি ও সুন্দর। শৈশব থেকেই আমার একটি বাচ্চা দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা ছিল। আমি জানতাম নিশা আমার মেয়ে হতে যাচ্ছে। কিন্তু দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া এতটাই জটিল যে আমার মনে হচ্ছিল আমরা দত্তক নিতে পারব না। আমি খুব হতাশ হয়ে যাই। আমার মন ভেঙে যায়।
কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছিল?
গত বছরের ২১ জুন নিশার দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়। একই দিন আমরা সুসংবাদ পাই যে, আমরা আরও দুই সন্তানের বাবা মা হচ্ছি। ডেনিয়েল ও আমি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ডাক্তারের পরামর্শে সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেই। নিশার দত্তক নেওয়া আর আসের ও নোয়ার পৃথিবীতে আসা একসময়েই হয়ে গেল।
নিশার সঙ্গে আসের ও নোয়ার সম্পর্ক কেমন?
ওরা কেবল নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া শুরু করেছে। গত রাতে নিশা একটি বই পড়ার চেষ্টা করছিল। সকালে তার সবাই একসঙ্গেই খেলাধুলা করেছে। এটা খুবই অসাধারণ। নিশা ওদের সঙ্গে এমনভাবে খেলে যেন বড় বোন ওদের দেখভাল করছে।
মাতৃত্ব আপনার জীবনে কী এনে দিল?
আমি দীর্ঘদিন ধরে সন্তান চেয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছে, আমাদের কাছে এমন কিছু ছিল যা আমরা চাইতে পারি। আমরা সন্তানদের সঙ্গে আমাদের জীবনকে ভাগাভাগি করতে চেয়েছি। এখন আমরা তিন দেবশিশু পেয়েছি। এটা ঈশ্বরের পরিকল্পনা। আমি আমার কাজকে ভালোবাসি। আমি ভালো মানুষ, কারণ আমি কাজ করি। এটা আমাকে বাঁচতে সাহায্য করে।
এটা কি ডেনিয়েলের সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে একটু খানি ঘনিষ্ঠ করে?
এটা আমাদের উভয়কেই ব্যক্তিত্ববান হতে সাহায্য করছে। প্রথম দিকে এটা ছিল আমাদের। একসময় আমি ডেনিয়েলকে মিস করতাম। এখন এটা হয় না। আমাদের রুমের দরজা সবসময়ই খোলা থাকে। আমরা যদি কোনো ছুটিতে যাই, নিশা আমাদের কাছেই থাকে। ডেনিয়েলের সঙ্গে যদি বাইরেও বের হই, আচমকা আমরা গাড়ি থামিয়ে দেই কোনো জায়গায়। সবকিছু কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। এটা আমাদের আরও ধৈর্য্য ধরতে শিখিয়েছে।
যখন আপনি বাড়িতে থাকেন, প্রতিদিন কী করেন?
আমি বাড়ির কাজে সাহায্য করি। কিন্তু সবসময়ই আমি একজন মা হতে চাই। আমি এটিকে খুবই এনজয় করি। তাদের সঙ্গে ছোট্ট কাজও আমার খুব ভালো লাগে। আমি তাদেও ডায়াপার পরিবর্তন করা, তাদের খাওয়ানো, তাদের কোলে নিয়ে ঘোরাফেরা করা, তাদের ঘুম পাড়ানো, সবকিছু ভালোবাসি। আমি সৌভাগ্যবান যে ডেনিয়েলও তাদের সঙ্গ দিতে পছন্দ করে। সে একজন ভালো বাবা। সে পছন্দ করে সবসময়ই বাচ্চারা যেন তাঁকে ঘিরে থাকে।
আপনার জীবনে এমন কি কিছু আছে, যা আপনি অন্যভাবে করেছেন?
আমি অনুশোচনা করে জীবন যাপন করি না। আমি সবকিছুই করেছি, যা আমি চেয়েছি। যদিও আমি এখানো বড় কোনো তারকার সঙ্গে সিনেমা করিনি। এবং বড় ক্যানভাসেরও কোনো সিনেমা করিনি। কিন্তু যা-ই আমি করেছি, সেটাই সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে করেছি। আমি যা পেয়েছি তাঁর জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি শয়তানের কাছে আমার হৃদয় বিক্রি করে দেইনি। আমি আমার পছন্দ নিয়ে সন্তুষ্ট। আমি আমার জায়গায় সুখী। এটা একটা দীর্ঘ পথ হাঁটার মূলমন্ত্র মনে করি।