জোনাস মেকাস

কবি ও চলচ্চিত্রকার, আমেরিকা

ওয়ালডেন (১৯৬৯), রেমিনিসিনসেস অব আ জার্নি টু লিথুনিয়া (১৯৭২), লস্ট লস্ট লস্ট (১৯৭৫), সিনস ফ্রম দ্য লাইফ অব অ্যান্ডি ওয়ারহোল (১৯৯০), সিনস ফ্রম দ্য লাইফ অব জর্জ ম্যাকিউনাস (১৯৯২), অ্যা আই ওয়াজ মুভিং অ্যাহেড আই স ব্রিভ জিলিম্পস অব বিউটি (২০০০)

 

জন্ম ও বেড়ে ওঠা
জোনাস মেকাসের জন্ম ১৯২২ সালে। লিথুনিয়ার সেমেনিস্কিয়াই এর একটি গ্রামে জন্মেছিলেন এই স্বাধীন ধারার পরিচালক। কিন্তু তাঁর কবিতা চর্চা ও স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আন্দোলন করেছেন গোটাটাই আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটিতে।
১৯৪৪ সালে তিনি ও তাঁর ভাই আদোলফাস জার্মানির নাজিদের আক্রোশের শিকার হন। তাদের দুই ভাইকে জার্মানির এলমশরন এলাকার একটি ক্যাম্পে জোর করে শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত করেন নাজি সদস্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টা ওখানেই কাটে তাদের। যুদ্ধশেষে মেকাস মেইঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে পড়ালেখা করেন। ১৯৪৯ সালের দিকে জাতিসংঘের শরনার্থী শাখা তাদের শরনার্থী হিসেবে আমেরিকায় নিয়ে আসে। সেখানে ব্রুকলিনের উইলিয়ামসবার্গে বসবাস শুরু করেন।

চলচ্চিত্রের সঙ্গে জীবনযাপন
নিউ ইয়র্ক আসার পরে তাঁর জীবনটা ছবি আর কবিতার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। আসার দুই মাস পর তিনি টাকা ধার করে কিনে ফেলেন জীবনের প্রথম বোলেক্স ক্যামেরা। তাঁর জীবনের বিশেষ কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাটি দিয়ে ধারন করেন। ছবি তোলার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন সৃজনশীল এই মানুষটি। খুব দ্রুত জড়িয়ে পড়েন আমেরিকার আভা–গার্দে চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে।১৯৫৪ সালে তিনি অসাধারণ একটি কাজ করেন। তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন চলচ্চিত্র সাময়িকী ফিল্ম কালচার। পরবর্তীকালে এটি আমেরিকাতে চলচ্চিত্রের পঠন–পাঠনে অনবদ্য কাগজ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। ১৯৫৮ সালে তিনি ভিলেজ ভয়েস সাময়িকীতে তাঁর চলচ্চিত্র নিয়ে তাঁর বিখ্যাত কলামগুলো লেখা শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন চলচ্চিত্রকারদের নিয়ে সংগঠন ফিল্ম–মেকার’স কোঅপারেটিভ এবং দুই বছর পর ১৯৬২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ফিল্ম–মেকার’স সিনেমাথিক। যেটা একসময় অমনিবাস সিনেমার ফিল্ম আর্কাইভে রূপান্তরিত হয়। এটি হয়ে ওঠে বিশ্বের স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা সংগ্রহশালা এবং সিনেমা প্রদর্শনীকেন্দ্র হিসেবে।

এই সময়ে তিনি কবিতা লেখা ও চলচ্চিত্র বানানোও চর্চা করেন। তিনি ২০ টিরও বেশি কবিতা ও গল্পের বই বের করেন। বইগুলো ১২টিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়। তাঁর লিথুনিয়ান ভাষার কবিতাগুলোকে লিথুনিয়ান সাহিত্যের ধ্রুপদি সাহিত্য হিসেবে ধরা হয়। আর তাঁর চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বের সব নামকরা জাদুঘরগুলোতে রেফারেন্স হিসেবে রাখা হয়। তিনি সিনেমাকে দৈনন্দিন ডায়রি লেখার মতো করে বানানোর এক ধরনের ধারার প্রবর্তক। এ ছাড়াও মেকাস বিভিন্ন জায়গায় সিনেমা নিয়ে পড়াতেনও। তিনি নিউ স্কুল ফর সোশ্যাল রিসার্চ, দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ফটোগ্রাফি, কোপার ইউনিয়ন, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)র মতো প্রতিষ্ঠানে পড়িয়েছেন।

চলচ্চিত্রযাত্রা
এভাবেই জোনাস মেকাস চলচ্চিত্রের সঙ্গে চলতে থাকেন সারাটি জীবন। এর মধ্যে তিনি তৈরি করেছেন অসাধারণ কিছু সিনেমা। ১৯৬৩ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর সিনেমা দ্য ব্রিগ স্বর্ণসিংহ পুরস্কার পায়। অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আছে ওয়ালডেন (১৯৬৯), রেমিনিসিনসেস অব আ জার্নি টু লিথুনিয়া (১৯৭২), লস্ট লস্ট লস্ট (১৯৭৫), সিনস ফ্রম দ্য লাইফ অব অ্যান্ডি ওয়ারহোল (১৯৯০), সিনস ফ্রম দ্য লাইফ অব জর্জ ম্যাকিউনাস (১৯৯২), অ্যা আই ওয়াজ মুভিং অ্যাহেড আই স ব্রিভ জিলিম্পস অব বিউটি (২০০০), লেটার ফ্রম গ্রিন পয়েন্ট (২০০৫), স্লিপলেস নাইটস স্টোরিস (২০১১), এবং আউট–টেকস ফ্রম দ্য লাইফ অব হ্যাপি ম্যান। ২০০৭ সালে তিনি ৩৬৫টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটি সিরিজের কাজ শেষ করেন করেন। স্বপ্লদৈর্ঘ্যগুলো প্রতিদিন একটি করে ইন্টারনেটে আপলোড করেন।

২০০০ সাল থেকে মেকাস ফিল্ম ইন্সটলেশন, প্রদর্শনী করা শুরু করেন সার্পেন্টাইন গ্যালারি, দ্য সেন্টার পম্পিদো, মুসে দো আর্ত মদার্ন দ্য লা ভিলে দ্য পাগি, দ্য মোদার্না মুসেত (স্টকহোম), ভেনিস বিয়েনালসহ বেশ কিছু বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে।

অর্জন ও পুরস্কার
জোনাস মেকাস অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক স্টেট কাউন্সিল অব আর্ট থেকে তিনি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পুরস্কার দেওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে রকফেলার ফাউন্ডেশন, দ্য ন্যাশনাল এনডোমেন্ট ফর দ্য আর্টস, অলব্রাইট নক্স গ্যালারি, দ্য লং আরফ থিয়েটার ফাউন্ডেশন। তিনি আমেরিকান সেন্টার অব পিইএন এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টসের সদস্য। এ ছাড়া চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র সংশ্লিষ্ট নানা পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন।

মৃত্যু
জোনাস মেকাস ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি মারা যান। লিথুনিয় বংশোদ্ভুত মার্কিন এই চলচ্চিত্রকার স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য স্মরণীয়। আভা–গার্দে চলচ্চিত্র আন্দোলনের নাম এলেই তাঁর নাম চলে আসবে গোড়ার দিকে। ক্যামেরার এই কবিকে নিয়েও সিনেমা তৈরি করেছেন সিনেমা করিয়েরা। জার্মানা চলচ্চিত্রকার পিটার সেম্পেল তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে তিনটি সিনেমা তৈরি করেন। সিনেমাগুলো হলো—মেকাস ইন দ্য ডেজার্ট (১৯৯১), মেকাস ইন দ্য ওশান (২০০৪) ও মেকাস ইন দ্য জঙ্গল (২০১৩)।

সূত্র: জোনাসমেকাস ডট কম (জোনাস মেকাসকে নিয়ে ওয়েবসাইট)