চলচ্চিত্র: ইউমুরতা (এগ)
পরিচালক: সেমিহ কাপলানোগলু
কলাকুশলী: নেজাত ইসলার, সাদাত আকসয়, তুলিন ওজান
দেশ: তুরস্ক
সাল: ২০০৭
রেটিং: ৩.৫/৫

 

বার্লিন্যালে পুরস্কার পাওয়া সিনেমাগুলো আগাগোড়া সৌন্দর্যে ভরপুর, বুদ্ধিতেও। ভাবলাম তালিকা করে গোল্ডেন বিয়ার পাওয়া ছবিগুলো দেখে ফেলি। সেই সূত্র ধরে পরিচয় তুর্কি দেশের বুদ্ধ পরিচালক সেমিহ কাপলানগলুর সঙ্গে। তাঁর ‘ইউসুফ ট্রিলজি’র প্রথম সিনেমা ‘ইউমুরতা’। তবে এই সিনেমাটি গোল্ডেন বিয়ার পায়নি। পেয়েছিল এই ট্রিলজির তৃতীয় সিনেমা ‘বল’। ‘ইউমুরতা’ দেখানো হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবের ডিরেক্টর্স ফোর্টনাইট সেকশনে। সে হিসেবেও এটিও কম যায় না।

‘বল’ ছবির গন্ধে খুঁজে পাই ‘ইউসুফ ট্রিলজি’। তারপর প্রথম ছব ‘ইউমুরতা’ দেখে ফেলি। এক সাদাসিদা গল্পের ছবি। তবে ছবির পরতে পরতে তুর্কির সমাজ-সংস্কৃতি উঠে এসেছে চিকন করে। সঙ্গে ছিল চমৎকার সব ছোট ছোট দৃশ্যকল্প।

এক লেখককে নিয়ে মূলত ইউসুফ ট্রিলজি। ইউমুরতা ছবিতে সেমিহ দেখিয়েছেন লেখক ইউসুফের মধ্যবয়স্ক জীবন। মা মারা যাওয়ার পর ফিরে আসেন গ্রামে। দীর্ঘদিন শহরে কাটিয়ে আসায় গ্রামের সংস্কৃতি ভুলে গেছেন ইউসুফ। উদ্যোগ নেন, কিছুদিনের মধ্যেই ফিরে যাবেন। কিন্তু যাওয়া হয় না। মায়ের মানত পুরো করতে মন স্থির করেন। যদিও এই সব মানত, ধর্মীয় কাজে একদমই আস্থা নেই ইউসুফের। এদিকে মায়ের সেবা করা চাচাত বোনের সঙ্গেও ইউসুফ জড়িয়ে পড়েন প্রেমে। যদিও গ্রামে একটি আলাভোলা মেয়ে তারা কাছে কেবলই সাধারণ বালিকা। লেখক ইউসুফ সত্ত্বা থেকে ক্রমে বেরিয়ে এসে গ্রামীণ সেই শৈশবের ইউসুফে ফিরে যাওয়ার এক চক্রগল্প ‘ইউমুরতা’। কারণ ইউসুফ শৈশবে আবার কবি হওয়ারই স্বপ্ন দেখত। স্বপ্ন পুরণের পরে মানুষ কীভাবে আবার পুরনো জায়গায় ফিরে আসে, তার দর্শনীয় আলাপ এই সিনোমায়। আদতে কোনো গল্প নেই। আছে ছোট্ট ছোট্ট দৃশ্যকল্প। যেগুলো আপনাকে ভাবাবে, তুর্কি সংস্কৃতি চেনাবে, চক্রবাকে পাক খাওয়া মাুনষ নিয়ে চিন্তা করতে শেখাবে।

বলে নেই, খুব সহজে এই সিনেমার পর্যালোচনা লেখাটা কঠিন। তারকোভস্কির সিনেমার বিশ্লেষন যেমন কঠিন। শিরোনাম দেখে অনেকেই বলতে পারেন, চলচ্চিত্রের কবি তারকোভস্কির সঙ্গে তাঁর কি সম্পর্ক? আছে বৈকি। সেমিহর সিনেমার ফ্রেম, শট, কম্পোজিশন ও চরিত্রের হাঁটাচলা দেখলে আপনি ধন্দে পড়ে যাবেন। হুট করেই মনে হতে পারে তারকোভস্কির সিনেমার কোনো দৃশ্য নয়তো! তারকোভস্কিকে এমন নগ্নভাবে অনুরকরণ কম পরিচালককেই দেখেছি। সেমিহকে তাই তুরস্কের তারকোভস্কি বললে ভুল হবে না, দিব্যি। ও হ্যাঁ একটা কথা বলে রাখি, সেমিহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাঁর পছন্দের দশটি সিনেমা কী? তাঁর উত্তরে সেমিহ বলেছিলেন, তারকোভস্কি, বার্গম্যান, ব্রেসোঁ, কুরাশাওয়ার নাম। তারকোভস্কিকে যারা চেনেন, তাঁরা জানেন, তারকোভস্কির পছন্দের পরিচালকও এরাই। তারকোভস্কির চলচ্চিত্রের ছাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে হাঙ্গেরিয়ান চলচ্চিত্রকার বেলা তর এর সিনেমায়। সেমিহ কাপলানগলু তাঁকেও ছাড়িয়ে গেলেন কিনা, তা জানতে দেখে নিতে পারেন ‘ইউমুরতা’।