চলচ্চিত্র: থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার
পরিচালক: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
কলাকুশলী:  নুসরাত ইমরোজ তিশা, মোশাররফ করিম, তপু,আবুল হায়াত,এশা শুভেচ্ছা, রানী সরকার
দেশ: বাংলাদেশ
সাল: ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯
রেটিং: ৮.০/১০
গল্প সংক্ষেপ
রুবা এবং মুন্না লিভ টুগেদার স্টাইলে একসাথে থাকছে। ব্যাপারটা পরিবারে জানাজানি হলে পরে তারা মুন্নার ফ্যামিলির সাথে থাকা শুরু করে। মজার ব্যাপার, তারা বাপ মার সাথে থাকলেও তাদের বিয়ে হয়নি। সেই লিভটুগেদারই চলছিল। এর মাঝে মদ খেয়ে বন্ধুদের সাথে মারামারিতে মুন্নার হাতে একটা খুন হয়ে যায়। যাবৎজীবন কারাদন্ড শাস্তি পেয়ে মুন্না জেলে যায়। ছেলের অবিবাহিত বউকে মুন্নার বাবা আর ঘরে রাখে নি। এদিকে রুবা তার মায়ের সাথে থাকতে চায় না। কারন তার মা পুরানো প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে বের হয়ে গেছে। রুবার বিশ্বাস এই কারনেই তার বাবার মৃত্যু ঘটে। সে তার মাকে ঘৃণা করে। থাকার স্থান না থাকায় রুবা প্রথমে তার খালাত বোনের বাসায় উঠে, কিন্তু খালাত বোনের শাশুড়ি রুবাকে তার ঘরে দেখতে চায় না। অগ্যতা রুবার ঢাকায় বাসা এবং চাকরি খুজতে থাকে। ঢাকার অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে তার বিভিন্ন পুরুষের অসৎ উদ্দেশের লক্ষ্য হতে হয়। যেখানেই যায় সেখানেই অসৎ ইঙ্গিত। নিজের বাপের বয়সীদের হতে পাওয়া এই আচরণে রুবার ঘৃণা ধরে যায়। কেউ চাকরি দিতে চায়, কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় কিন্তু বিনিময়ে ব্যবহার করতে চায় রুবাকে। উল্লেখ করা মত একটা জিনিস দেখলাম যে, রুবার প্রতি অন্যসব পুরুষকে আগ্রহী দেখানো হলেও, তার অফিসের বসকে কোন প্রকার ইঙ্গিত দিতে দেখানো হয় নি। অথচ, জেলে দেখা করতে গেলে মুন্না রুবাকে বলে তার বস একটা লুইচ্চা। এমনি কি রুবার দ্রুত প্রোমশনে অফিসের অন্য পুরুষ কর্মকর্তাকেও জেন্ডার ডিসক্রিমিনিশনের দায়ে বসকে দোষ দিতে দেখা যায়। কাহিনীতে এই বসকে লুল না দেখিতে হয়ত রুবার চাকরির যোগ্যতা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এরপর শুরু সিনেমার অন্যপর্ব। তপু-রুবা একই ফ্লাটে থাকছে, আলাদা আলাদা রুমে। রাতের বেলা প্রথমাংশের এই সব বৃদ্ধদের মতই মিলনের ইচ্ছায় তপু রুবার রুমের সামনে ঘোরা ঘুরি করে, মাঝে মাঝে দরজা নক করে। রুবা সবই বুঝে কিন্তু সরাসরি সম্মতি দেয় না। ঠিক পরের দৃশ্যে, একই উদ্দেশ্যে রুবাকেও ঘোরা ঘুরি করতে দেখা যায়। ঠিক এই মূহুর্তেই রুবার সামনে হাজির হয় তার ১৩ বছরের মন। রুবাকে তপুর প্রতি শারিরিক আকর্ষণ হতে দূরে রাখতে রুবার মনের এক অংশ সবসময় রুবার সাথে ঝগড়া করতে থাকে। এই সমস্যায় রুবা মানসিক চিকিৎসকেরও কাছে যায়। প্রথমে মাঝে মাঝেই রুবা মুন্নাকে দেখতে যেত। কিন্তু চাকরি এবং তপুর কারনে সেটা ধিরে ধিরে কমতে থাকে, একপর্যায়ে মুন্নাই আর রুবার সাথে দেখা করতে চায় নায়। তপু রুবাকে পাবার আকাঙ্খা বার বার প্রকাশ করে যায়। রুবা বোঝে এবং এটাকে সে কোন প্রকার অসৎ উদ্দেশ্য বলে মনে করে না, যেমনটা সে প্রথমের বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে মনে করত। উলটা রুবা নিজেই তপুর আহ্ববানে সাড়া না দেবার কারনে অস্বস্থি বোধ করে। এক পর্যায়ে রুবা তপুর আকাঙ্খাতে সম্মতি জানিয়ে তপুকে তার ঘরে আসতে বলে। তপু লাফাতে লাফাতে কনডম কিনে হাজির হয় রুবার ফ্লাটে। গিয়ে দেখে রুবা নাই। রুবা আবার তার ১৩ বছরের মনের প্রভাবে তপুর কাছে নিজেকে সমর্পনে অসম্মতি জানায়। তপু মহা বিরক্ত হয়।
ঠিক এই মূহুর্তেই কিভাবে যেন মুন্না জেল থেকে ছাড়া পায়। সে এসে উঠে রুবার ফ্লাটে। কিন্তু বুঝতে পারে এই রুবা আগের সেই রুবা নয়, সব চেঞ্জ হয়ে গেছে। রুবাও বুঝতে পারে তার মন পড়ে আছে তপুর কাছে। সেটা সে সরাসরি মুন্নাকে জানায়। মুন্নাকে সে বলে যেহেতু তাদের বিয়েই হয় নাই তাই ডিভোর্সের প্রশ্ন উঠে না। তাই তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত। প্রথমে মুন্না জানায় সাত দিন সময় নিয়ে দেখতে যদি মত পালটায়। কিন্তু অল্প কয়দিনেই মুন্না বুঝে কোন লাভ নাই। সে রুবাকে প্রস্তাব দেয় তারা আলাদা থেকে আর কি করবে, তার চেয়ে তারা বন্ধুর মত একত্রেই থাকতে পারে। শেষ অংশে দেখা যায় রুবার তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেতে। সে চিৎকার করে বলে, মা আমি তোমাকে ভালবাসি। ভালবাসা ফিরে এসেছে যে কারনে রুবা তার মাকে ঘৃণা করত সেই দোষেই সে নিজে দোষী। সেই মূহুর্তে রুবা নিজের মায়ের কৃতকর্মের যুক্তি খুজে পায়। এককালে তার কাছে মায়ের যে কাজটিকে পিতার মৃত্যুর কারন বলে মনে হয়ে এসেছে, সেই একই কারনে তার মায়ের প্রতি ভালবাসা ফিরে আসে। এরপর তপু রুবার সাথে দেখা করতে এসে প্রস্তাব দেয় তার সাথে কক্সবাজারে ঘুরতে যাবার। রুবা বলে মুন্নাকেও নিয়ে যেতে, মুন্না রাজি হয়। তারা তিনজন কক্স বাজারে ঘুরতে যায়
মূল কলাকুশলী
পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
প্রযোজক ফারিদুর রেজা সাগর, ইবনে হাসান খান(ইমপ্রেস টেলিফিল্ম)
রচয়িতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
সুরকার রেজাউল করিম লিমন
চিত্রগ্রাহক সুব্রত রিপন
সম্পাদক তিতাস সাহা
পরিবেশক ইমপ্রেস টেলিফিল্ম
অভিনয়শিল্পী
নুসরাত ইমরোজ তিশা – রুবা হক
মোশাররফ করিম – মুন্না
রাশেদ উদ্দিন আহমেদ তপু – তপু
আবুল হায়াত রহমান
এশা – এশা
শুভেচ্ছা –
রানী সরকার –
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র – থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক – মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী (সমালোচক) – নুসরাত ইমরোজ তিশা
মনোনীত: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা (তারকা জরিপ) – মোশাররফ করিম
মনোনীত: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী (তারকা জরিপ) – নুসরাত ইমরোজ তিশা
আন্তর্জাতিক সম্মাননা
ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারঃ পুজান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০০৯
অফিসিয়াল প্রতিযোগিতাঃ আবুধাবি (মধ্যপ্রাচ্য) আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
অফিসিয়াল নির্বাচিতঃ রটার্ডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচালকঃ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০
অফিসিয়াল প্রতিযোগিতাঃ তিবুরন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০
অফিসিয়াল প্রতিযোগিতাঃ মিলান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০
অফিসিয়াল প্রতিযোগিতাঃ সান ফ্রান্সিসকো দক্ষিণ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০
অফিসিয়াল মনোনয়ন বিদেশি ভাষার ছবিঃ হলিউড, ক্যালিফোর্নিয়া ৮৩তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) ২০১০
সংগীত
থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন রেজাউল করিম লিমন। গীত রচনা করেছেন হাবিব ওয়াহিদ ও রেজাউল করিম লিমন। ছবি মুক্তির আগেই এই ছবির গানগুলোর অডিও সিডি ও ক্যাসেট “ফাহিম মিউজিক” এর ব্যানারে বাজারে ছাড়া হয়। “দ্বিধা” গানটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই ছবির গানের কণ্ঠশিল্পীরা হলেন হাবিব ওয়াহিদ, ন্যান্সি, প্রিন্স মাহমুদ, লিমন, তাহসান, মিথিলা, সুমি, অনিলা ও তপু।
অন্যান্য তথ্যাবলী
জেনারেল: ফিকশন
মুক্তি ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯
দেশ: বাংলাদেশ
সময়কাল: ১০৯ মিনিট।
ফরম্যাট: ডিজিটাল
রং: রঙিন
ইংরেজী নাম : Third Person Singular Number
ভাষা: বাংলা