চলচ্চিত্র: আরাম
পরিচালক: গোপি নাইনার
কলাকুশলী: নয়নতারা, রামচন্দ্রন দুরাইরাজ, সুনু লক্ষ্মী
দেশ: ভারত (তামিল)
সাল: ২০১৭
রেটিং: ৩.৫/৫
ভারতীয় ডিসক্ট্রিক্ট কালেক্টর মাধবী। সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিতে চান। তার উপরস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এনিয়ে কথা হয় মাধবীর। দুজনের কথোপকথনেই চলচ্চিত্রটির গল্প উঠে আসে। কেন মাধবী স্বেচ্ছায় সরকারি কর্মকর্তার পদ থেকে অবসর নিতে চান? তাঁ খুঁজতেই খুলে যায় সিনেমার গল্পের দরজা।
২০১৭ সালের তামিল সিনেমা এটি। তাই ফিল্মখোরদের অনেকেই সিনেমাটি খেয়ে ফেলেছেন। মানে দেখেছেন। সুতরাং একটু আধটু গল্প তো বলাই যায়। কী কন? তয় খুব একটা বেশি কইমু না। কারণ এখনো যারা দেখেন নাই। তারা তাইলে গোস্বা হইতে পারেন। প্রথমে একটু শুদ্ধ শুদ্ধ রীতিতে কথা কইয়া হঠাত আউলা ঝাউলা রীতিতে কথা কইতাছি ক্যান? প্রশ্ন জাগতে পারে। হ্যাগো কই। আসলে আমি মানুষটা বড় উল্টা পাল্টা। যতই শহরের মানুষগো মতো একটু শুদ্ধ কইতে চাই ততই গড়বড় হইয়া যায় গা। কী করা। শুদ্ধ অশুদ্ধ মিলা জগাখিচুড়ি। হউক গা। বুঝলেই তো অইলো। কী কন? ভাষার কাম তো বুঝানো।

তয় যেডা কইছিলাম। এই যে কালেক্টর মাধবী উনি যেই এলাকার দায়িত্বে ওই এলাকায় একটা দুর্ঘটনা ঘটে। একটা বাচ্চা পইড়া যায় কুয়োর ভেতর। কুয়ো থেইক্যা তুইলা আনার কাহিনি নিয়াই এই সিনেমা। আদতে সিনেমা খানার চোহারা দেখলে বোঝন যায়, থ্রিলার ধাঁচের। কিন্তু উইকিপিডিয়া কয়, এইডা নাকি সোশ্যাল ড্রামা মানে সামাজিক সিনেমা। আমি একটু পড়া লেহা করবার চাই। দেহি কি জানেন? আসলেই এইডা একখান সিনেমা। থ্রিলারের পিছনে সোশ্যাল, পলিটিক্যাল, গভরমেন্টাল কত কি যে জড়াইছে ডিরেক্টর সাব তার ইয়ত্তা নাই। খালি কি তাই? এই সিনেমার জন্য অভিনেত্রী নয়নতারা নিজের জান কুরবান কইরা দিছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সহাকারি পরিচালকের তকমাও এখন তাঁর ঘাড়ে গিয়া পড়ছে। আমিও তা-ই এবার একটু চোখ কান খুইলা দেখতে বইসলাম। আমার আবার সিনেমা দেহার আগে পড়ে একটু পইড়া লওয়া অভ্যাস। পইড়া টইরা যা দেখলাম তাতে একখান কথাই মাথার মধ্যে ঢুকল, সিনেমাখানে থ্রিলারের আড়ালে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের দ্বন্দ্ব দেখাইয়া ফালাইছেন পরিচালক গোপি নাইনার সাহেব।
যেই মাইয়াটা কুয়োর মধ্যে পড়ছে হেতেরা খুবই গরিব কিসিমের লোক। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এদিকে ওই এলাকাতে পানির বড্ড সমস্যা। পানি উঠানোর জন্য যেইসব কুয়া করা হইছে তাতে আবার ঢাকনা দেওয়া নাই। কুয়া এমনই সরু যে একজন পইড়া গেলে তারে উঠান যাইতো না। গরীব কিসিমের লোক। তাগো লইয়া ভাববার কে আছে? তাই কুয়োর ঢাকনা তো দূরের কথা তাগো পানি সমস্যা নিয়াই কারো কোনো মাথা ব্যাথা নাই। এমন এক এলাকায় মাধবীর ডিউটি।মাধবী প্রথম ধাক্কা খায় এলাকার পানি সমস্যা নিয়া। কোনো রকমে তা সে সামাল দেয়। কিন্তু এই মেয়ে কুয়োর মধ্যে পড়ে যাওয়ায় এর উদ্ধার কাজ নিয়া মাধবী পড়ে সমস্যায়। সকাল থেকে দুপুর হয়ে যায়। রাজ্যের এমন কিছু নাই উদ্ধারের জন্য চেষ্টা তদবির করছে না। তবু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ওদিকে জনগণ ক্ষেপে যাচ্ছে। কেমন দেশ একটা বাচ্চাকে উদ্ধার করতে পারে না। ওদিকে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত তখন মাঠে এসে দেখা দেন ওখানকার এমএলএ। এমএলএ এসে তো অবাক! আরে একটা গরিব বাচ্চা মেয়ের জন্য এত আয়োজন কিসের। মরে যাবে। ওদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দাও। ধামকি ধুমকি দিয়ে সবাইকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কালেক্টর ম্যামতো নাছোর বান্দা। সে বাচ্চাকে উদ্ধার করে ছাড়বেই। ওদিকে সবার মেলা কাজ। ওই দিনই আকাশে উড়াল দেবে ভারতের রকেট। ও নিয়া দেশবাসীর আনন্দের শেষ নাই। দেশের একটা মান মর্যাদার ব্যাপার আছে না। কোন গরিব চার বছরের বাচ্চা মারা গেল তাতে কি আসে যায়। টাকা দিয়ে দাও। চুকে যাক। কিন্তু মাধবী ম্যাম চ্যালেঞ্জ ছুইড়া দিল এমএলএর দিকে। এমএলএ তো পুরাই অবাক। হালায় এমন কালেক্টর তো জীবনেও দেখে নাই। ফোন লাগায় মিনিস্টারকে। কালেক্টর মিনিস্টারকেও পাত্তা দেয় না। উল্টো এই কুয়ো যাদের দায়িত্বে তাদের কাজে অবহেলার জন্য অ্যারেস্ট করার আয়োজন করে। ওই জায়গায়ই কালেক্টর ও এমএলএর দ্বন্দ্ব চরমে।

আদতে দেখলে কওন যায়, ইমোশনের লগে বাস্তবতার একখান দ্বন্দ্ব তুইলা ধরছেন ডিরেক্টর সাব। আসলে কি তাই? একটু চোখ খুইলা দেখলেই বোঝন যায়, ডিরেক্টর সাব তো এই দ্বন্দ্ব দিয়া আইন বিভাগ মানে রাজনীতি ও শাসন বিভাগ মানে সরকারি আমলাগো দ্বন্দ্বটা তুইলা ধরছে। যাউক গা চোক্ষে আঙুল দিয়া দেহাই দিছে এহনো এই উপমহাদেশে দুই বিভাগের কাজ কম্মের কোনো স্বাধীনতা কিংবা সহযোগিতা নেই। আমগো দেশেও একই কথা। হয় দ্বন্দ্ব নয়তো শাসন বিভাগ হয় আইন বিভাগের গোলাম। মন্ত্রীর এক ফোনে আমলারা স্যার স্যার করতে করতে বেহুঁশ।

সে যাই হউক। আমি মনে করি ভারতীয় চলচ্চিত্রে এই ধরনের সিনেমা করা একখান সাহস বটে। একটা ছ্যারা আর একটা ছেরির প্রেম কাহিনি আর উল্টাপাল্টা মারামারির স্রোতে যে এমন একখান সিনেমা করার সাহস করছে এইটার জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় প্রযোজকদের। এমন গল্প হাজির করায় নমস্কার গোপি নাইনারকে। পুরো সিনেমায় কোনো নায়িকা নাই। একজন নায়ক। সে সিনেমার অভিনেত্রী নয়নতারা। আপনারা কইবেন? এইডা আবার কেমন কতা রে ভাই। অভিনেত্রী আবার নায়ক হয় কেমনে? আমি কই কি। আরে ভাইজান, নায়কের আবার পুরুষ কি আর স্ত্রী কি? সারা সিনেমা জুইড়া তো এক নয়নতারাই। তো সে-ইতো নায়ক হইবো। নায়ক মানে যে সামনে আগাইয়া ঘটনা টাইনা লইয়া যায়। নয়নতারা তো তাই করলেন। নয়নতারা, আপনার প্রেমের সিনেমার চাইতে এই সিনেমা আপনাকে অনেক বেশি জনপ্রিয় করছে আপনি জানেন তা? অভিনয়ে মাশাআল্লাহ বেশ ভালো। একদম পরিমিত। আহা অন্যরাও। ধাঞ্চিকা, যে মেয়েটি কুয়োয় পড়ে গেল। ওর বাবা-মাতো অসাধারণ। মনেই হবে না অভিনয় ছিল। মনে হলো, গাঁ থেকে হয়তো কাউকে ধরে এনে অভিনয় করানো হয়েছে।

ভুল ভাল কি একটুও ছিল না? থাকবে না কেন? সিনেমা কি কোনো ঐশ্বরিক গ্রন্থ নাকি? কিছু তো আছেই। সিনেমাতে একটু অবসর লাগে। টান টান উত্তেজনায় শেষ হইয়া গেলে টান টান হইয়া মাথা থেইক্যাও চইলা যায়। প্রভাব কম থাকে। আমার এক ফিল্মেকার বন্ধু কইত, দোস্ত আমি সিনেমা বানাইলে সিনেমার মাঝখানে হঠাত কইরাই কোনো কারণ ছাড়া তিন-চার সেকেন্ড ব্ল্যাক আউট করুম। মানে পর্দা অন্ধকার রাখুম। যাতে দর্শক সিনেমার মাঝখানে একটু হাফ ছাড়তে পারে। এক্কেরে বইয়ের পাতার সব জায়গায় কি লেখা ভাল্লাগে? কিছু অংশ সাদা রাখতে হয় না? যাই হউক আরও কিছু আছে চোখে লাগছে। যেমন, পানি নেই অথচ ধাঞ্চিকার ভাই মন্টু পাশেই নদীতে সাতার কাটতে যায়। যেখানে প্রথমবার মন্টুকে কুয়োতে ঢুকালে খুব ভয় পায়। পরের বার কালেক্টরসাব এমন নসিহত করেন যে সে বীরের মতো কয়, আমি আমার বইনরে কুয়া থেইক্যা বাইর কইরা নিয়া আসুম। এই সব অতিনাটকীয়তা মাঝে মাঝে বিরক্ত তো কইরা ছাড়ছে। তবুও বাজার বলে কথা। টাকাতো উঠাইতে হইব। তাই হয়তো ডিরেক্টর সাব একটু আধটু নাটকীয়তা রাখছে। ভারতীয় দর্শক তো আবার মেলেড্রোমা ছাড়া জমে না। আর কত কমু? শব্দ নয়শোর বেশি হইয়া গেছে। আর পারুম না। পারলে সিনেমাখান দেইখা লন। সময়টা নষ্ট হইবো না। পাক্কা। জানেন তো, ৮ কোটি রুপির সিনেমাখান কামাই করছে ৭৪ কোটি রুপি।