পরিচালক: ইয়াসুজিরো ওজু
কলাকুশলী: চিশু রিউ, সেতসুকো হারা, হারুকো সুগিমুরা
দেশ: জাপান
সাল: ১৯৪৯
রেটিং: ৪/৫

বাবা আমি বেশ আছি। বিয়ে করতে চাই না। বিয়ে করলেই আরো সূখি হবো আমি তা মনে করি না। আমি তোমার সাথে থাকতে চাই।

দেখ্ মা, বিয়ে মানেই সূখী হওয়া আমি তা বলিনি। কেউ সূখি হয়, কেউ হয় না। তোর মায়ের কথাই ধর। মাঝে মধ্যেই কাঁদতে দেখতাম। পরে আমরা ঘনিষ্ট হলাম। পরস্পরকে বুঝলাম। অন্তত একটা যায়গায় এক থাকতাম। জীবনটা এরকম। চিরদিন তুই তোর বাবার সাথে থাকতে পারবি না। না এটা ঠিক হবে। সমাজ, পরিবার, এই পৃথিবী এসবের ভারসম্য রাখতে আমরা বিয়ে করি। ছেলেটা ভাল। তুই রাজি হয়ে যা। আমি জানি তোরা সূখি হবি।
বাবার কথায় নরিকো (মেয়ে) কিছুটা কনফিউজড হয়ে বান্ধবীর কাছে পরামর্শ করতে আসে।
শোন্ নরিকো, আ্যরেন্জড ম্যারেজে তোর সমস্য কী? ধর, তোর কাউকে পছন্দ হল, তুই তাকে বলতে পারবি বিয়ের কথা? তারচে এ-ই ভাল।
দেখ্, মানাতে না পারলে আমার মতো চলে আসবি।

দর্শক সারিতে অমি কনফিউজড। কোনটা করব? বাবার কথাও ঠিক। ইনট্রোভার্টদের জন্য বান্ধবীর কথাও ভুল না। কিন্তু একটা অপরিচিত লোক, যাকে আমি জানি না, তার সাথে গোটা জীবনটা শেয়ার করা। আবার পছন্দ করার নাম করে বিয়ের পূর্বে সবাই যা করছে তাও সঠিক বলে মানতে পারছি না। শিল্পি হিসেবে পরিচালক সফল। সে দর্শককে ভাবাতে পেরেছে।

১৯৪৯ সালে জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াসুজিরো ওজু তার ছবি ‘লেট স্প্রীং’ এ এসব ব্যাপার তুলে এনেছেন। যুদ্ধ পরবর্তি ছবি। ৫ টা এওয়ার্ড জিতেছে। দৈর্ঘ্য ১০৮ মিনিট। কৌতুহলী হলে দেখতে পারেন। কিন্তু বলে রাখি- এটা ৬৩ বছর আগের ছবি। সাদাকালো। মিউজিক কোয়ালিটি ওই রকম। তার উপরে ওজুর বাতিক ছিল ক্যামেরা হাটুতে রাখার। নো মুভমেন্ট। কথোপকোথন জাপানিজ্। এ ক্ষেত্রে ইংরেজি সাবটাইটেল ভরসা। তবে এ জাতীয় ছবিই দেখতে পছন্দ করেন ইরাণী প্রভাবশালী পরিচালক আব্বাস কিয়ারোস্তামি। তার মতে- ‘আমি সেই ছবি দেখতে পছন্দ করি যা দেখতে বসলে ঘুম পায় কিন্তু দেখার পরে ৭ দিন ঘুমাতে পারি না’।