দীপিকা পাড়ুকোন
অভিনেত্রী, ভারত
ওম শান্তি ওম (২০০৭), ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি (২০১৩), চেন্নাই এক্সপ্রেস (২০১৩), রামলীলা (২০১৩), হ্যাপি নিউ ইয়ার (২০১৪), পিকু (২০১৫), বাজিরাও মাস্তানি (২০১৬), ট্রিপল এক্স: রিটার্ন অব দ্য জ্যান্ডার কেজ (২০১৭) ও পদ্মাবত (২০১৮)
জন্ম
দীপিকা পাড়ুকোনের জন্ম ডেনমার্কেও কোপেনহেগেনে, ১৯৮৬ সালে। পরে তিনি চলে আসেন ভারতের ব্যাঙ্গালোরে। তখন তাঁর বয়স মাত্র এক বছর। দীপিকার বাবা বিশ্বের নাম করা ব্যাডমিন্টন খ্যালোয়াড় প্রকাশ পাড়–কোন ও বোন আনিশা পাড়–কোন একজন গলফার। তাই তাঁর রক্তের মধ্যেই খেলা জড়িত। দীপিকার শৈশব কেটেছে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঝেই। ১৬ বছর বয়সে সিদ্ধান্ত নেন, তিনি তাঁর ক্যারিয়ার অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। তিনি মডেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত হন। যাকে বলা যায় ভারতীয় শীর্ষ অভিনেত্রী হওয়ার একটি ঐতিহাসিক সময়।

মডেলিং ও অভিনয়
দীপিকা প্রথম টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। প্রথম বিজ্ঞাপনটি ছিল লিরিল ব্র্যান্ডের। অভিষেক বছরেই কিং ফিশার ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডে মডেল অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পান। এরপর মডেলিং করতে থাকেন একে একে। ২০০৭ সালে ওম শান্তি ওম সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিনেমাতে অভিনয় করেন। বিপরীতে ছিলেন শাহরুখ খান।

দীপিকা এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। রোমন্টিক থেকে শুরু করে ইতিহাস নির্ভর, রাজনৈতিক, মাসালা সব ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। দীপিকার অনেকগুলো সিনেমাই বছরের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। এ ছাড়া ভিন ডিজেলের বিপরীতে ২০১৭ সালে হলিউডের সিনেমা ট্রিপল এক্স: রিটার্ন অব জ্যান্ডার কেজ সিনেমাতে অভিনয় করেন। এ ছাড়া প্রায় ২০০ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ কন্যা হয়েছেন দীপিকা। পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শতেরও ওপরে পুরস্কার।

দীপিকা সবশেষ রানী পদ্মাবতীর চরিত্রে অভিনয় করে মাত করে দিয়েছেন। সিনেমাটি তিনশ কোটির উপরে ব্যবসা করে। কোনো নারী অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে কোনো সিনেমা এই প্রথম এত আয় করল। যা বলিউডে ইতিহাস গড়েছে।

শুধু বলিউডে নয়, সারা বিশ্বে তাঁর অভিনয়গুণ ও সৌন্দর্য্যরে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৬ এবং ২০১৮ তে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় সেরা আয় কারী অভিনয়শিল্পীর তালিকায় প্রথম দশজনের মধ্যে ছিলেন। ২০১৮ সালে টাইম ম্যাগাজিন ১০০জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় দীপিকাকে রেখেছে।

দীপিকার জীবনের একটি অন্যতম দিক হলো হতাশার সঙ্গে লড়াই করে জিতে যাওয়া। তিনি জীবনের দীর্ঘ একটা সময় হতাশার সঙ্গে লড়াই করেছেন। হতাশা নামক সমস্যাটি দূর করতে তিনি তৈরি করেছেন একটি ফাউন্ডেশন। যার নাম-লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্তদের নানা ধরনের পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হয়। তিনি অনেক বড় বড় কোম্পানির পণ্যদূত ছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য টিসোট, লরেল, জিও ও নাইকি।

২০১৮ সালের শেষ দিকে বেড় সারম্বরে বলউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দীপিকা পাড়–কোনের বিয়ে হয়।

ওয়েবসাইট: deepikapadukone.com

সিনেমা
ওম শান্তি ওম (২০০৭), বাচনা এ হাসিনো (২০০৮), চাদনী চক টু চায়না (২০০৯), লাভ আজকাল (২০০৯), কার্তিক কলিং কার্তিক (২০১০), হাউজফুল (২০১০), লাফাঙ্গে পারিন্দে (২০১০), ব্রেক কি বাদ (২০১০), খেলিন হাম জি জান সে (২০১০), আরকাশান (২০১১), দেসি বয়েজ (২০১১), ককটেল (২০১২), রেস ২ (২০১৩), ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি (২০১৩), চেন্নাই এক্সপ্রেস (২০১৩), রামলীলা (২০১৩), ফাইন্ডিং ফ্যানি (২০১৪), হ্যাপি নিউ ইয়ার (২০১৪), পিকু (২০১৫), তমশা (২০১৫), বাজিরাও মাস্তানি (২০১৬), ট্রিপল এক্স: রিটার্ন অব দ্য জ্যান্ডার কেজ (২০১৭) ও পদ্মাবত (২০১৮)।