চলচ্চিত্র: বারিলি কি বরফি
পরিচালক: অশ্বিনি আইয়ার তিওয়ারি
কলাকুশলী: রাজ কুমার রাও, কৃতি শ্যানন ও আয়ুষ্মান খুরানা
দেশ: ভারত
সাল: ২০১৭
রেটিং: ২.৫/৫

 

কাল একটা সিনেমা দেখলাম। একদমই চুড়মুড়ে। আহা যেন পপকর্ন চিবোলাম কিছুক্ষণ। আজকাল সিনেমা দেখতে বসলেই ঘুম পায়। এমন সব কঠিন বিষয় নিয়া সিনেমা বানায় মাথামুন্ডু কিছুই বোঝা যায় না। বুঝতে বুঝতেই ঘুম পেয়ে যায়। সিনেমা দেখা সার। কিন্তু এই সিনেমা দেখে মনে হলো, আরে সিনেমা দেখি শুভলং ঝর্নার পানির মতো। এক্কেরে টলটলে। হাতে নিলাম আর পিয়ে দিলাম। আহা কী সুন্দর। কেন যে পরিচালকেরা কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে অযথাই প্যাচায় বুঝি না। কেন ভাই? সোজা গল্পের সিনেমা বানাইলে কী হয়?
উত্তর প্রদেশের মেয়ে বিট্টি। চাকুরি করে বিদ্যুত অফিসে। বাবা মায়ের ইচ্ছা বিট্টির তাড়াতাড়ি বিয়ে হোক। কিন্তু কোনো ছেলের সঙ্গেই বিট্টির মনে মিলে না। ফলে জামাইও জোটে না বিট্টির কপালে। এ নিয়ে বেশ বিরক্ত মা। বিট্টির অবশ্য এক কথা। তার মন বুঝতে পারে এমন ছেলেকেই বিয়ে করবে সে। কোথায় পাবে সে ছেলে?

মা বিয়ে নিয়ে প্রতিদিন ঘ্যানর ঘ্যানর করে। বিরক্ত হয়ে বিট্ট বাড়ি থেকে পালায়। কিন্তু স্টেশনে এসে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। স্টেশন থেকে কেনা উপন্যাসের বইয়ে খুঁজে পায় তাঁর মতো চরিত্রের মেয়েকে। বিট্টি মনে করে, এই বইয়ের লেখক নিশ্চয়ই বিট্টির মনের মতো। শুরু হয় লেখককে খোঁজার পালা। ওদিকে বইয়ে যার ছবি দেওয়া সে লেখক নয়, গ্রামের সাধাসিধে এক যুবক। বিট্টি কী করবে?

এভাবে গল্পটি এগোয়। তরতারিয়ে ঘটনাগুলো ঘটে যায়। আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখি। এই সিনেমার মধ্যে কোনো শিক্ষণীয় বিষয় নেই। কোনো দর্শন নেই। কিছুই নেই। কেবলই বিনোদন। কেবলই আনন্দ। তাহলে এই ছবিটি নিয়ে কথা কেন? কথা এই কারণে এমন কিছু আনন্দের সিনেমা থাকা উচিত। কেবল ভুরি ভুরি নীতিকথা মিশিয়ে নিরানন্দ সিনেমা বানালে দেখবে কে? সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তো টিকতে হবে?

যদিও এটি বাংলাদেশের সিনেমা না। সিনেমাটি বলিউডের। তথাপি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালকেরা শিখতে পারেন। কী করে কম বাজেটে টাকা উঠিয়ে আনার মতো সিনেমা বানাতে হয়। পরিচালক অশ্বিনি আইয়ার তিওয়ারি ভালো করে জানেন। বড় বাজেটের সিনেমা দিয়ে টাকা উঠাতে হলে খানদের ছাড়া বিকল্প নেই। তাই তিনি অন্য পথেই হেঁটেছেন। তাই বলে তাঁর সিনেমার পাত্র পাত্রীরা অভিনয়ে কাঁচাটি নন। নিয়েছেন বলিউডের উদীয়মান তিন অভিনয়শিল্পীকে। কৃতি শ্যানন, আয়ুষ্মান খুরানা ও রাজকুমার রাওকে। কৃতি শ্যানন এখনো আলোচনায় না থাকলেও আয়ুষ ও রাও বলিউডে উদীয়মান তারকা। অভিনয়টা ভালোই জানেন দুজন। এই সিনেমাতেও একটুকু ছাড় দেননি। পাক্কা অভিনয় করে গেছেন। কৃতি শ্যাননও তাল মিলিয়েছেন প্রাণপন।

গল্প বলায় তিওয়ারিকে দশে আট দেওয়া যায়। তরতরিয়েই গল্পটা বলে গেছেন। মাঝে মাঝে ছোট ছোট টুইস্টও ছিল। চিত্রগ্রহণ, সংলাপ ও অন্যন্য বিষয়গুলো নিয়ে বলার কিছু নাই। উতরে গেছে। অবশ্য চোখে লাগার মতো কোনো চিত্রগ্রহণ করাতে পারেননি তিওয়ারি। কিংবা করেনওনি। গল্পেই মনযোগ দিয়েছেন। যদিও কোনো কোনো দৃশ্যকে অতিরঞ্জিত কমেডি মনে হয়েছে। তবুও তিনি পাক্কা পাশ করেছেন। এই সিনেমাকে বাটখাড়া নিয়ে মাপার কোনো দরকার মনে করিনা। কারণ ওর কাজ ছিল আনন্দ দেওয়া।