নাম: কাজল
জন্মস্থান: মুম্বাই, মহারাষ্ট্র, ভারত
জন্ম: ৫ আগস্ট, ১৯৭৪
পেশা: অভিনয়শিল্পী

 

২৩ বছর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত শাহরুখ খানের সঙ্গে তার জনপ্রিয় ছবি দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে এখনও মুম্বাইয়ের একটি প্রথম সারির সিনেমা হলে চলছে। এতেই বোঝা যায় সবার কাছে তার অবস্থান কতটা শক্তিশালী। নব্বইয়ের দশকে দুর্দান্ত ক্যারিয়ার উপভোগের পর এই তারকা অভিনেত্রী সমান আবেগ এবং অনুভূতি নিয়ে বিয়ে ও মাতৃত্বকে গ্রহণ করেন। ফানা, কাভি খুশি কাভি গাম, মাই নেম ইজ খান এবং দিলওয়ালের মতো তার একের পর এক হিট ছবিগুলো সবসময়ই বক্স আফিস মাত করেছে। কিন্তু প্রদীপ সরকারের হেলিকপ্টার এলার মধ্য দিয়ে কাজল সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। একজন নিবেদিত মায়ের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে তাকে অন্য কোথাও তাকাতে হয়নি বরং তার নিজের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট ছিল। আসলে সব মায়েরাই এক, একটু আধটু পাগল। তারা শুধু ভালবাসা দিয়েই যায়। কাজলের ক্ষেত্রেও তাই।

হেলিকপ্টার এলায় আপনি একজন উঠতি বয়সী ছেলের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এক্ষেত্রে আপনি কোনরকম সংকোচ বোধ করেছেন?
না, বাস্তব জীবনে আমি একজন ১৫ বছর বয়সী সন্তানের মা। এটাই সত্য কথা। আমি গর্বিত যে নায়ার বয়স ১৫। যদি স্ক্রিপ্ট ভাল হয় তাহলে আমি সব রকম চরিত্রই করতে রাজি। আমি একজন চুল পাকা বৃদ্ধার চরিত্র করতেও পছন্দ করব যদি আমি উপযুক্ত হই। যদি স্ক্রিপ্ট ভাল হয় তাহলে কেন নয়?

একজন মা হিসেবে এলার সাথে আপনার কতটা মিল আছে?
এলা অন্যসব মায়ের মতই। যে পুরোপুরি তার সন্তানের ব্যাপারে নিবেদিত প্রাণ থাকে। আমার বাচ্চা সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে ভাল, সবচেয়ে স্মার্ট। প্রত্যেক মা তা-ই মনে করে। কিন্তু এলা তার সন্তানের ব্যাপারে একটু বেশিই আবেগী। সে একটা পাগল (হাসি)। আপনার মনে হতে পারে সে অন্য কারও মা। কিন্তু সে যা করে তার জন্য আপনার তাকে পছন্দ হবে এবং আপনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আসলে সে যা করে এর পেছনে ভালবাসাই দায়ী। যখন আমরা মা হই তখন আমরা ভুলে যাই আমরা একজন মা ছাড়াও অন্যকিছু। আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন কিন্তু আপনি জানেন না কিভাবে নিজেকে ফিরে পেতে হবে। এটা প্রায় এলার গল্পের মতই। যার কারণে এলার চরিত্রটা করা আমার জন্য সহজ হয়েছে।

প্রদীপ সরকারের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?
প্রদীপদার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই চমৎকার। উনি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক হওয়া পরিচালক। ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে আমি তার হাতে সেরা পরিচালকের পুরস্কার তুলে দিয়েছি (২০০৫ সালে, পরিনীতা ছবির জন্য। (হাসি) সুতরাং সিনিয়রিটির দিক থেকে আমি তার বড়। তার সেন্স অব হিউমার চমৎকার। একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি এমন কোনো পরিচালকের সাথে কাজ করতে চাইবেন যে আপনার মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনে। প্রদীপদা সেটা করেছে।

বাস্তব জীবনেও আপনি সবসময় আপনার পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন…
আমি সবসময়ই আমার পরিবারকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিয়েছি। তাদের ছাড়া আমি কিভাবে থাকতে পারি? পরিবারই আমার আশ্রয়স্থল, আমার শেকড়।

এলার মতো আপনিও কি আপনার সন্তানের বিরুদ্ধে আপনাকে কম সময় দেয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করেন?
অবশ্যই। আমি আমার মেয়েকে অভিযোগ করি। আমার ছেলে (যুগ) এখনও ছোট। আমি অভিযোগ করি নিসা আমার সাথে যথেষ্ট সময় কাটায় না,আর সে আমার থেকে বন্ধুদের সাথে বেশি গল্প করে। আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করি। প্রত্যেক টিনএজারের গল্পটা এমন।

আপনার কি আপনার মা তনুজার প্রতি কোন অভিযোগ আছে?
না। আমার মা একেবারেই শান্ত প্রকৃতির মানুষ। সে কখনোই আমাকে বলেনি তুমি আমার সাথে যথেষ্ট সময় কাটাও না। এমনকি এখনও বলে না। তবে হ্যাঁ, তিনি বলেন, তুমি অবশ্যই প্লেটের পুরোটা খাবার শেষ করবে। তিনি একজন কর্মজীবী মহিলা ছিলেন। আমার নানু (অভিনেত্রী/পরিচালক শুভনা সামর্থ) এবং নানুর মা-ই সাধারণত আমার দেখাশোনা করত। এরপর আমি বোর্ডিং স্কুলে চলে গেলাম। আমার মা আমাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র কিছু করার,নিজের বিশ্বাসে অটুট থাকার, আর যদি ভুল করি যেন তার দায়দায়িত্ব নেই। ভুল সবাই-ই করে। হয়তো আমিও অনেক ভুল করেছি। কিন্তু যদি আমি তার দায়দায়িত্ব নেই তাহলে দ্বিতীয়বার আর সে ভুল হবে না। বরং এটা একটা শিক্ষা হয়ে থাকবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় যা আমার মা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আশাকরি আমিও আমার সন্তানকে তা শিক্ষা দিতে পারব।

একজন মা হিসেবে আপনি কতটা উন্নতি করেছেন?
আমার প্রচুর উন্নতি হয়েছে।দ্বিতীয় সন্তানের বেলায় সবকিছু আপনার জন্য আরেকটু সহজ হয়ে যাবে।প্রথম সন্তানের সময় আপনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।সুতরাং আপনি জানেন কিভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।যা আপনাকে সুস্থির করে তুলে এবং সবকিছু ভালভাবে সামাল দেয়ার যোগ্য করে তুলে।আমি চাই আমার উভয় সন্তান-ই একজন ভাল,দায়িত্ববান ও উৎপাদনশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে তারা যা-ই করুকনা কেন আমি তাদেরকে সুখী দেখতে চাই।আপনার সন্তানের উচিত জীবনকে মোকাবেলার যোগ্যতা অর্জন করা।জীবন তাকে কি দিচ্ছে,সফলতা নাকি ব্যার্থতা।

একজন অভিভাবক হিসেবে বর্তমানে আপনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা?
আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্যের প্রবাহ যাচাই করা। বাচ্চারা অনলাইনে সব ধরনের তথ্যের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারছে। যৌনতা, ধর্ষণ অথবা কিভাবে মেয়েরা বাজে ব্যাবহারের শিকার হয় তা শিখছে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের কাজটা হচ্ছে এই তথ্যগুলো সহজভাবে তাদের তরুণ মনে বোধগম্য করে তোলা। এবং নিশ্চিত করা তা তাদের বয়সের উপযুক্ত কিনা? আমার একটা ট্যাব আছে যাতে আমার বাচ্চারা বিভিন্ন বিষয় পড়ে ও দেখে। কিন্তু আপনি একটা নির্দিষ্ট লেভেলের পর আর কিছু করতে পারবেন না। যদি আপনি ঘরে তাদেরকে এর অনুমতি না দেন তাহলে তারা বাইরে বন্ধুদের সাথে দেখবে। কিন্তু বিষয়গুলো আপনি নিশ্চিতভাবেই তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারেন।