চলচ্চিত্র: হৃদয়ের রংধনু
পরিচালক: রাজিবুল হোসেন
কলাকুশলী: মিনা পেটকোভিচ (সার্বিয়া), শামস কাদির, মুহতাসিম স্বজন, খিং সাই মং মারমা প্রমুখ।
দেশ: বাংলাদেশ
সাল: ২০১৮
রেটিং: ২.৫/৫
চার বন্ধুর গন্তব্যহীন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ সিনেমার মূল সুর। সেই সাথে ঘটে কিছু অঘটন। আছে বাংলার চর এলাকার কিছু খন্ড চিত্র এবং সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। বাংলাদেশের পর্যটন এলাকাগুলির অসাধারণ চিত্রায়ন নিয়ে সিনেমা হৃদয়ের রংধনু
হৃদয়ের রংধনু এর পরিচালক বাংলাদেশের রাজিবুল হোসেন। দীর্ঘদিন সেন্সর বোর্ডে আটক থেকে পেয়েছে সেন্সর সনদপত্র। ভারতে প্রদর্শনীর পর দেখানো হলো বাংলাদেশর সপ্তদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।
সিনেমার গল্প
 
সিনেমার গল্প হুবহু বলে স্পয়লার দেব না। শুধু একটু সুর ধরিয়ে দেব। প্রথমেই বলে নিয়েছি এটি চার বন্ধুর গন্তব্যহীন যাত্রার এক চ্যলেঞ্জ। যে চ্যালেঞ্জটি আসে অজানা এক মোবাইল নাম্বার থেকে। তারপর চার বন্ধু ঝাঁপিয়ে পড়ে চ্যালেঞ্জটি পুরো করতে। এই চ্যালেঞ্জ পুরণের যাত্রা পথে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। উঠে আসে ব্যক্তিগত জীবনের নানাকিছু। চলে আসে বাংলাদেশের পর্যটন এলাকার বেশ কিছু চিত্র। বেশ কিছু দিন আগে ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশ হইচই পড়ে যায়। এই ছবির গল্পে ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ নয়, তবে এর মতোই অজানা এক নাম্বার থেকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে বলে। তারপর শুরু হয় চার তরুণের যাত্রা। হয়তো পরিচালক একটি থ্রিলার ধাঁচ তৈরি করতেই এই কৌশলটি গ্রহণ করেছেন। তবে গল্পটি কি অতটা যুতসই? তা মনে হয় প্রশ্ন থেকে যায়।
সিনেমার উপস্থাপন
এই সিনেমায় আমরা বিভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। বিশেষ করে বন্ধুদের মাঝে মজা ও আনন্দ করা, ছিল কিছু দুঃসাহসিক অভিযান , ছিল কিছু প্রেম-ভালোবাসা এবং সেই সাথে ছিল বাংলাদেশের কিছু পযর্টনের দৃশ্য যা সিনেমার মাধ্যমে খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমার কথা
প্রথমেই বলতে চাই মিনার চরিত্রটি নিয়ে। পরিচালক খুব সুন্দর করে তিনটি ছেলের মাঝে একটি মেয়েকে তুলে ধরেছেন। মিনা ঠান্ডা মাথায় সব বিপদকে মোকাবেলা করে তিন বন্ধুকে সাহায্য করেছেন। দেখিয়েছেন নিজেদের প্রতিভাকে কী করে কাজে লাগাতে হয়। মিনার চরিত্রটি খুব সাবলীলভাবে পরিচালক তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে তিন বন্ধুর চরিত্রকেও ভিন্ন ধাঁচ দিয়েছেন। যা মনে রাখার মতো।
সিনেমায় কিছু চরের খণ্ড চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেমন চর দখল, অপহরণ ইত্যাদি। পরিচালক খুব কম সময়ে এই চিত্র গুলি তুলে ধরেছেন, যা ভালো।
এই সিনেমায় প্রধান যে জিনিসটির দিকে দৃষ্টি ফেরাতে চেয়েছেন সকলের, তা হলো, বাংলাদেশের পর্যটন। বাংলাদেশের পর্যটন জায়গা গুলি অসম্ভব সুন্দর করে চিত্রায়িত করেছেন পরিচালক। প্রতিটি জায়গার দৃশ্যায়ন ছিল অসাধারণ।
এই ছাড়া সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যায়ন এবং চিত্রগ্রহণ ছিল অসাধারণ। আর সংলাপ ছিল খুব সাবলীল। সিনেমাটি যারা দেখবেন তারা সহজেই ঢুকে যেতে পারবেন গল্পের ভেতর।
সিনেমার নেতিবাচক একটা দিকের কথা হলো, অজ্ঞাত সেই ফোনের কোনো উৎস সিনেমার শেষে দেখানো হয় নি। তবে সবকিছু মিলে এই সিনেমার মূল পাওয়া হলো-বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অসাধারণ দৃশ্যায়ন।
সিনেমাটি প্রযোজক ও পরিচালক রাজিবুল হাসান। এই সিনেমায় যারা অভিনয় করছেন তাঁরা হলেন মিনা পেটকোভিচ (সার্বিয়া), শামস কাদির, মুহতাসিম স্বজন, খিং সাই মং মারমা প্রমুখ।