মনিকা বেল্লুচি
মডেল ও অভিনেত্রী
মোজার্ট ইন জঙ্গল (২০১৬), স্পেকট্রা (২০১৫), আ বার্নিং হট সামার (২০১১), দ্য হুইসেলব্লোয়ার (২০১০), দ্য প্যাশন অব ক্রাইস্ট (২০০৪), দ্য ম্যাট্রিক্স রেভুলেশন (২০০৩), দ্য ম্যাট্রিক্স রিলোডেড (২০০৩), মালেনা (২০০০), দ্য অ্যাপার্টমেন্ট (১৯৯৬), ব্রাম স্টকার‘স ড্রাকুলা (১৯৯২)।

 

মডেলিং দিয়ে মিডিয়া জগতে যাত্রা শুরু মনিকা বেল্লুচির। পরবর্তীকালে অভিনয়েও জনপ্রিয়তার শীর্ষে যান এই ইতালিয় আবেদনময়ী অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রে আবেদনময়ী চরিত্রে তাঁর অভিনয় সবার চোখে লেগে আছে। বেশ কয়েকবার মডেলিং ম্যাগাজিনে নগ্ন পোজ দেওয়ায় বিতর্কিত হন। তাকে ইতালিয় সেক্স সিম্বল হিসেবে ধরা হয়। ইম্পায়ার ম্যাগাজিন তাঁকে একুশ শতাব্দীর ‘দ্য সেক্সিয়েস্ট ২৫ ক্যারেক্টারস ইন সিনেমা দ্য উইমেন‘ হিসেবে ঘোষণা করে।

জন্ম ও শৈশব
১৯৬৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বও ইতালির সিত্তা দি কাসতেল্লো শহরে। মনিকা ছিলেন তাঁর মায়ের একমাত্র সন্তান। তাঁর মা ছিলেন একটি পণ্য বিনিময়কারী কোম্পানির মালিক। স্কুল বয়সেই মনিকা মডেলিং করা শুরু করেন। মডেলিং এর টাকা দিয়ে স্কুলের খরচ চালাতেন। পেরুজা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ালেখা শুরু করেন। কিন্তু মডেলিংয়ে তার মন পড়ে থাকে।
একটা পর্যায়ে মডেলিংয়ের দিকে পূর্ণ মনযোগ দেন। পড়ালেখা ছেড়ে দেন। ইতালির নাম করা ফ্যাশন হাউজ দোলচে গ্যাব্বানার জন্য কাজ করতে থাকেন। এবং কয়েকটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ কন্যা হয়েছিলেন। তার মধ্যে ফরাসী ফ্যাশন ম্যাগাজিন এলে অন্যতম। ১৯৯০ সালে আলোচিত্রি ক্লাউদিয়ো বাসোর সঙ্গে বিয়ে হয়। মাত্র চার বছর টেকে সংসার। ১৯৯৪ সালে ভেঙ্গে যায় সে বিয়ে।
এর মাঝে তিনি কিছু ইতালিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে কাজ করেন। ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো আমেরিকার দর্শকের কাছে পরিচিত হন ব্রাম স্টকারের ড্রাকুলা সিনেমা দিয়ে। সে চলচ্চিত্রে গ্যারি ওল্ডম্যান ছিলেন ভ্যাম্পায়ার হিসেবে। মনিকা ছিলেন তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে। চার বছর পর তিনি আলোড়ন তৈরি করেন ফরাসি চলচ্চিত্র লা আপারতমেন্তে ছবি দিয়ে। এই চলচ্চিত্রেরই সহশিল্পী ভিনসেন্ত ক্যাসসেলের প্রেমে পড়েন। দুজন বিয়ে করেন কয়েক বছর পরেই।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে

এরপর থেকে একে একে ইউরোপীয় ও হলিউড দুই ঘরানার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যান মনিকা। তিনি অভিনয় করেন আন্ডার সাসপিশন চলচ্চিত্রে। একই বছর ইতালিয় চলচ্চিত্র মালেনাতে অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য আলোচনায় আসেন তিনি। দুই বছর পর উপহার দেন আরেকটি অসাধারণ সিনেমা- ব্রাদারহুড অব দ্য ওলফ।

২০০৩ সালে মনিকা অভিনয় করেন সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র সিরিজ ম্যাট্রিক্স এ। দ্য ম্যাট্রিক্স রিলোডেড, এন্টার দ্য ম্যাট্রিক্স ও দ্য ম্যাট্রিক্স রিভোলুশন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পর্দায় কিয়ানু রিভসের সঙ্গে তাঁর চুম্বন বেশ সাড়া জাগায়। এমটিভি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সেরা চুম্বন দৃশ্যের জন্য মনোনীত হয় এটি। এরপর মনিকা চলে আসেন ইতিহাস ভিত্তিক চলচ্চিত্রে। মেল গিবসন পরিচালিত ২০০৪ সালে সিনেমা দ্য প্যাশন অব দ্য ক্রাইস্ট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর অভিনয় করেন দ্য ব্রাদার্স গ্রিম চলচ্চিত্রে। এর মাঝে আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন মনিকা। তবে বেশ সাড়া জাগায় সত্য ঘটনা অবলম্বনে ২০১০ সালের চলচ্চিত্র হুইসেলব্লোয়ার ও ২০১১ সালের ইতালিয় রোমন্টিক কমেডি দ্য এইজেস অব লাভ সিনেমাটি। ২০১৫ সালে স্পেকট্রা চলচ্চিত্রে ডেনিয়েল ক্রেইগের নায়িক হিসেবে বন্ড গার্ল চরিত্রে অভিনয় করে বেশ আলোচনায় আসেন। এবং আদেনময়ী হিসেবে বেশ আলোচনায় আসেন। ২০১৬ সালে বিখ্যাত সার্বিয় চলচ্চিত্রকার এমির কুস্তরিকার অন দ্য মিল্কিওয়ে রোড সিনেমায় অভিনয় করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

মনিকা বেল্লুচি ও ভিনসেন্ত ক্যাসসেলের ঘরে আছে দুই মেয়ে- দেভা ও লিওনি। ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে ভেঙ্গে যায়। মনিকা এখনো টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে হরদম অভিনয় করে যাচ্ছেন। চলছে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রচ্ছদ কন্যা হওয়াও। যদিও তাঁর বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব, তথাপি যৌন আবেদনময়ী হিসেবে পশ্চিমা চলচ্চিত্রপাড়ায় তার নামটি উচ্চরিত হয় বেশ জোরেসোরে।