চলচ্চিত্র: প্রেম আমার ২
পরিচালক: বিদুলা ভট্টাচার্য্য
কলাকুশলী: আদ্রিত, পূজা চেরী, চম্পা, শুভদ্রা চক্রবর্তী, বিশ্বজিত চক্রবর্তী
দেশ: ভারত, বাংলাদেশ
সাল: ২০১৯

রেটিং: ২/৫
অড্রে হেপবার্ন আর গ্রেগরি পিকের রোমান্টিক ছবিটা চোখে পড়ে। রোমান হলিডের পোস্টার সাটা সফেদ দেয়ালে। সেদিকে তাকিয়ে ভাবি—এইসব সিনেমা চালানো হয়েছে যে হলে সেখানে আমাদের সামনে দাঁড়ানো মাত্র জনাকয়েক দর্শক। বলাকা সিনেমা হলের সুরুচি সম্পন্ন পরিবেশ তৈরির অর্থ যোগানের জন্যও এর দশগুণ দর্শক প্রয়োজন। দর্শক কম থাকার কারণ সিনেমা। সিনেমা দেখতেই দর্শক আসে। তবু আমরা আজকের ছবিটি দেখব। আমাদের উদ্দেশ্য—বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার ছবি প্রেম আমার ২ দেখা।
সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়ার কথা। সাতটায় শুরু হলো ছবিটি। একটা ক্যাম্পাসে নায়কের গান কারার দৃশ্য দিয়ে এই ছবির শুরু। স্পয়লার হওয়ার ভয়ে আমরা ছবির গল্প বলার পক্ষপাতি নই। তবে এটুকু বলতে পারি, বড় মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় অসম্মানিত বাবা। তাই ছোট মেয়ের প্রেম তিনি রুখবেনই। দ্বিতীয়বার অসম্মানিত হতে তিনি চাইবেন না তিনি।আর নায়ক ও নায়িকা মিলে জোর প্রচেষ্টা সেই প্রেমকে সফল করার। বাংলা চলচ্চিত্রের আদিকালের এই কনসেপ্ট নিয়ে বেড়ে উঠেছে ছবিটি। তাতে কী। কত পুরনো মদই তো নতুন বোতলে খেতে ভালো লেগেছে। এই ছবিটি কি স্বাদে গন্ধে কিছুটা ভরাতে পারল মন? কী বলেন, আমার পাশে বসা দর্শক।
আমার ডান পাশে যিনি বসা ছিলেন। কথাবার্তায় মনে হলো সিনেমা বানানোর আশেপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করেন। তাই বারবার বলতে শোনা যায়, সিনেমার মধ্যে ক্রাইসিস কই? ক্রাইসিস ইতো দর্শককে টেনে নিয়ে যাবে। উনি ক্রাইসিস বলতে শিল্পের চিরন্তন উপাদান দ্বন্দ্বের কথা বুঝিয়েছেন। উনার সঙ্গে আমিও একমত। এই সিনেমায় দ্বন্দ্ব নাই এমনটি নয়, তবে তার উপস্থাপন বড় ম্যারম্যারে।
সাদামাটা গতিতে এগিয়ে গেছে সিনেমাটি। মাঝে মাঝে ঘুমের ঝোঁক এসে গেলে চোখ কচলে আবার মনযোগ দিতে পারেন। চলুন গল্প নিয়ে বেশি কচকচানি না করি। অভিনয়ে মাঝে মাঝে জি বাংলার ধারবাহিকের উচুগ্রামের অভিনয় এসে ধরা দেবে। তাতে কিছু যায় আসে না। যদি পাতে তোলা খাবার সুস্বাদু হয়। এই সিনেমাতে অস্বাদু খাবারও মাঝে মাঝে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভিনেত্রী অপূর্বা চরিত্রে রূপদানকারী পূজা চেরী বেশ সাবলীল অভিনয় করেছেন। ভালো অভিনয়ের তালিকায় আরও নাম বলা যেতে পারে দু–একজনের।
চিত্রায়নে সিনেমাটি ঠিক সিনেমা হয়ে ওঠেনি। কখনো কখনো ধারবাহিক কিংবা নাটকের সঙ্গে মিলে গেলে চমকে ওঠার কিছু নাই। অনেককে বলতে শুনেছি, টেলিছবিগুলোকে বড় পর্দায় সিনেমার নামে নাকি নিয়ে আসা হচ্ছে। সিনেমা নিয়ে আমার ধারণা অল্প। তবে তাতে এতটুকু বলতে পারি, টেলিছবির মতো লাগলে তো দর্শকদের দোষ দেওয়ার কিছু নেই, তাই না?
তবে এটা ঠিক একটু আধটু চুম্বন দৃশ্যের ছবিতে যে দর্শকেরা শিস বাজাননি এমনটি নয়। আমরা এখনো যে সিনেমাকে নিছক বিনোদনের মাধ্যমই দেখছি তা বলা যায়। এত কাজের ভীরে তাই নিছক বিনোদন নেওয়ার মানুষ কজন পাওয়া যায়? সিনেমাকে প্রতিদিনের ডাল–ভাত খাওয়ার মতো করে পাতে দিন না, দেখুন কেমন উপচে পড়ে দর্শক।
ছবি শেষ হয়। আমরা বের হই। অড্রে হেপবার্ন ও গ্রেগরি পিকের ছবি দেখার আক্ষেপ হয়ত করি না। কিন্তু একটা বেদের মেয়ে দেখার ইচ্ছা তো থাকে নাকি?