চলচ্চিত্র: অ্যাভেঞ্জারস: এইজ অব আলট্রন
পরিচালক: জস ওয়েডন
কলাকুশলী: রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস হ্যামসওর্থ, মার্ক রাফালো, ক্রিস ইভানস
দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সাল: ২০১৫
রেটিং: ৩/৫

 

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের দ্বিতীয় পর্বের পঞ্চম সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এইজ অফ আল্ট্রন’। ২০০০ সালের পরবর্তী সময়টাতে ‘স্পাইডার-ম্যান’ ট্রিলজি দিয়েই রূপালী পর্দায় নতুন করে শুরু হয় সুপারহিরো উন্মাদনা। তবে সুপার হিরোদের এই বিষয়টি অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে মার্ভেল। অ্যাভেঞ্জারদের নতুন এই মুভিতে শুধু সুপার হিরোরা নেই, আছে এক সুপার ভিলেন, আলট্রন। অনেকটা আয়রন ম্যান টনি স্টার্কের ভুলের কারণেই যার সৃষ্টি। আছে নতুন দুই চরিত্র- টুইন ভাইবোন। যারা অনেকটা প্রতিশোধ পরায়ন মিউট্যান্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এখানে। আরো আছে ইনফিনিটি স্টোন দিয়ে তৈরী ভিশন। নতুন এই চার চরিত্রের চিত্রায়নেও জশ হোয়েডন বজায় রেখেছেন তার কুশলতা। বিশেষ করে আল্ট্রনের চরিত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এক রোবটের হলেও দারুণ রসালো সব সংলাপ আর মানবিক আবেগের উপস্থিতি তাকে সত্যিই করে তুলেছে অনন্য। আল্ট্রনের চরিত্রটির মানবিক দিক লক্ষ্যণীয়। টনি স্টার্কের মতোই, সেও রগচটা, বেশ রসবোধসম্পন্ন আর ক্ষেত্র বিশেষে নিষ্ঠুর। পুরো সিনেমাতেই তাই আল্ট্রনকে শেষ পর্যন্ত টনি স্টার্কের অল্টার ইগো হিসেবেই মনে হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় ছাব্বিশটি দেশে চিত্রায়িত হওয়া এই মুভিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বাংলাদেশেও চিত্রায়িত হয়েছে।
এই মুভিতে যে চরিত্রগুলো পাওয়া যাবে সেগুলো হলো-
-ক্যাপ্টেন আমেরিকা- স্টিভ রজার্স, যাকে বলা হয় ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার। ক্যাপ্টেন হলো বাকী সব সুপারহিরোদের কমান্ডার। এই চরিত্র বরাবরের মত অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘ক্রিস ইভানস’।
-আয়রন ম্যান- টনি স্টার্ক। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যাভেঞ্জারদের সবচেয়ে বেশী পারিশ্রমিক পাওয়া আর্টিস্ট রবার্ট ‘ডাউনি জুনিয়র’।
-ভিন গ্রহের দেবতা ‘থর’। এই চরিত্র চিত্রায়ন করেছেন হলিউডের সবচেয়ে সুন্দর অভিনেতাদের একজন, ‘ক্রিস হেমসওয়ার্থ’।
-আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ এক বিজ্ঞানী যে রেগে গেলে মহা ক্ষ্যাপা হাল্ক হয়ে যান। (মার্ক রাফালো)
-রাশিয়ান স্পাই ‘নাতাশা রোমানফ’, যে ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামেই অধিক পরিচিত। (স্কারলেট জোহানসেন)
-জমজ দুই ভাইবোন, ‘কুইক সিলভার’(এরন টেইলর) ও সবচেয়ে সুন্দরী অ্যাভেঞ্জার ‘স্কারলেট উইচ’ যে প্রথমে অ্যাভেঞ্জারদের শত্রু ছিল। (এলিজাবেথ ওলসেন)
-হক আই(জেরেমি রেনার)
-হাইমডাল(ইদ্রিস এলবা)
আলট্রনের কণ্ঠ দিয়েছেন জেমস স্পেডার। অতিথি চরিত্রে আছেন সদ্য প্রয়াত স্ট্যান লি, যাকে মার্ভেলের পিতা বলা হয়। কেননা মার্ভেলের অধিকাংশ চরিত্র তাঁর তৈরী।
আর বরাবরের মত অ্যাভেঞ্জারদের গুরু হিসেবে আছেন ডিরেক্টর ‘নিক ফিউরি’। ফিউরির কোনো সুপার পাওয়ার না থাকার পরও সব অতিমানবীয় সুপার পাওয়ার গুলোকে তিনি কন্ট্রোল করে থাকেন। আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই ডিরেক্টর চরিত্রটির জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট অভিনেতা হলেন ‘স্যামুয়েল এল জ্যাকসন’।
এপ্রিল ১৫, ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভির বাজেট ছিল প্রায় সারে চারশো মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বক্স অফিসে আয় করেছিল ১.৪ বিলিয়ন ডলার।
মার্ভেলের অন্যান্য মুভির মত এই মুভিতেও সুপার হিরোরা মানবতাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। শুরু হয়ে যায় মানব, অতিমানব, দেবতা, মেশিন আর রোবটদের মধ্যেকার বহুমুখী লড়াই। জানা কথা সে লড়াইয়ে জিতে যায় অ্যাভেঞ্জাররাই। কীভাবে? জানতে হলে মুভিটি দেখতে হবে। যারা সুপারহিরো মুভি পছন্দ করেন তাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি মাস্টারপিস হবে বলে আশা করা যায়। হ্যাপি ওয়াচিং।