চলচ্চিত্র: আ ট্যাক্সি ড্রাইভার
পরিচালক: সাং হুন
কলাকুশলী: সুং গাং ও, থমাস ক্রেসম্যান
দেশ: দক্ষিণ কোরিয়া
সাল: ২০১৭
রেটিং: ৩.৫/৫

 

সাধারণ কিছু দিয়ে কি আসাধারণ কিছু বলা যায়? যায় হয়তো। তা না হলে এই সিনেমাটা অসাধারণ হয়ে উঠবে কেন? সিনেমাটির ব্যাপারে পড়েছিলাম এশিয়ান একটি ওয়েব পোর্টালে। তখন অতটা আগ্রহ জাগেনি। আরও বেশ কয়েকটি পোর্টালে লেখালেখি হওয়ায় ছবিটি মাথার মধ্যে গেঁথে যায়। সে কথা আরও মাস দুয়েক আগের।

তারপর কিছুদিনের জন্য ভুলে যাই। কম্পিউটারের র্যানডম অ্যাকসেস মেমরির মতো। ছুটির দিনে মনটা খাবি খায় একটা সিনেমা দেখতে। আর দেরি না করে ‘আ ট্যাক্সি ড্রাইভার’-ই দেখে ফেলি। ২০০৭ সালের সিনেমাটি অনেকেই দেখেছেন। তবুও যারা দেখেননি তাদের জন্য গল্প ফাঁস করব না। এইটুকুই বলব, একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাঁধে ভর করে কোরিয়ার গুয়াংজু প্রদেশের ১৯৮০ সালের গণতন্ত্রী আন্দোলনকে চমৎকার করে দেখিয়েছেন পরিচালক সাং হুন। বলে রাখা ভালো, এটি কিন্তু সত্য ঘটনাও বটে।

যুগে যুগে প্রত্যেক আন্দোলনেই এমন কিছু ব্যক্তি জড়িয়ে যান, যাদের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক থাকে না। গুয়াংজু গণতন্ত্র আন্দোলনের এই ট্যাক্সি ড্রাইভারও তেমনি। একমাত্র মেয়েকে নিয়েই তাঁর সবকিছু। এক জার্মান সাংবাদিককে গুয়াংজু পৌঁছে দিতে গিয়েই এই সাধারণ ট্যাক্সি ড্রাইভার হয়ে ওঠেন অসাধারণ। কিম গি দকের হাত দিয়ে কোরিয়ান সিনেমার যে নবজন্ম এই সিনেমায়ও তার কিছুটা দেখা মিলবে। সাং হুন যে কয়েক বছর ধরেই কিমের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশি সালের গুয়াংজু প্রদেশের সেই হত্যাকা- ও আন্দোলন যে কতটা ভয়াবহ হয়েছিল তার দেখা মিলবে এখানে। তাই বলে ছবিটি শুধুই একটি ইতিহাসের বয়ান হয়ে যায়নি। রূপে রসে হয়ে উঠেছে সিনেমাই। না হলে, এবারের অস্কারে দক্ষিণ কোরিয়া এই ছবিটিকেই পাঠায়?

ট্রাক্সি ড্রাইভার চরিত্রে সুং গাং ও দারুণ করেছেন। যারা কোরিয়ান সিনেমা দেখেন তারা জানেন, ‘মেমরিজ অব মার্ডার’, ‘সিক্রেট সানশাইন’ ছবির অভিনেতা যে কোনো চরিত্রায়নেই কত শক্তিশালী। জার্মান সাংবাদিকের চরিত্রে রূপদানকারী থমাস ক্রেসম্যানও উৎরে গেছেন। অন্যান্যরা প্রশংসার যোগ্য।

সিনেমাটোগ্রাফিকে আলাদা করে বলার কিছু নেই। ছবিটির উপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। এই ভালো। বর্তমানের পরিচালকেরা প্রযুক্তির কারিকুরি দেখাতে গিয়ে বাহুল্য করে ফেলেন। সেদিকে যে পরিচালকের ভালো নজর ছিল তা বোঝা যায়। তবে কোরিয়ান ছবির আবেগি মেলোড্রামা যে এই ছবিতেও খানিক প্রভাব ফেলেছে তা বোঝা যায়। এই দীক্ষাটুকু কিম গি দক থেকে পরিচালক নেননি বুঝি? নাকি বিকিকিনির আশায় ওটুকু রেখে দিয়েছেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। তবে এইটুকু বলে রাখি, সময়টা কিন্তু বৃথা যাবে না।