চলচ্চিত্র: জেনারেশন আমি
পরিচালক: মৈনাক ভৌমিক অ্যান্ড বয়েজ
কলাকুশলী: ঋতব্রত, সৌরসেনী, অপরাজিতা, শান্তিলাল
দেশ: ভারত
সাল: ২০১৮
রিটিং: ২.৫/৫
কিশোর দেউলিয়া। সেখান থেকে তৈরী হয় হতাশা। আবার প্রেমে হাবুডুবু খায় সে। একাকিত্বের সময়ে হাল ছেডে় দেওয়া শহর জীবনের দুই প্রজন্মের চিন্তাধারা থেকে নির্মিত হয়েছে জেনারেশন আমি সিনেমাটি। সিনেমায় দেখানো হয় দুটি পরিবার। এবং দুটি ছেলে মেয়ের বেড়ে ওঠা। তাদের পিতামাতার তাদের নিয়ে আশঙ্কা ও সম্ভাবনা। এই নিয়ে সিনেমা-জেনারেশন আমি।
গল্প
 
একটি পরিবার থাকে কলকাতায় এবং অন্য আরেকটি পরিবার থাকে দিল্লিতে। কলকাতার পরিবার মধ্যবিত্ত এবং দিল্লীর পরিবার ধনী। কলকাতার পরিবারে আছে ছেলে ,মা, বাবা ও দাদি। দিল্লীর পরিবারে আছে মেয়ে ,মা ও বাবা। আমি কলকাতার পরিবার নিয়ে আলোচনা শুরু করছি। ছেলে স্কুলে পরে ,মা গৃহিনী এবং বাবা চাকরি করে। ছেলের ভালো ও উজ্জ্বল ভবিষৎ তৈরি করার জন্য তাদের যত চিন্তা ভাবনা। এই জন্য আমরা সিনেমায় দেখতে পাই ছেলের ইচ্ছের কোনো গুরুত্ব নাই বরং মা বাবার ইচ্ছাতেই চলতে হয়। ছেলে খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে খারাপ হয়ে যাবে বলে মা ছেলের সঙ্গ ছাড়ে না। এই নিয়ে তার বন্ধুদের কাজ থেকে তাঁকে ঠাট্টা শুনতে হয়। এই নিয়ে সে সব সময়ে মন খারাপ করে থাকে। একদিন দিল্লী থেকে বাবার কাছে খবর আসে দিল্লীর পরিবারের মেয়ে চিকিৎসা করার জন্য কলকাতায় আসবে। থাকবে তাদের বাসায়। এই নিয়ে পিতা মাতার চিন্তা পরিবারের খরচ নিয়ে। কারণ মেয়েটা ছিল উঁচু পরিবারের।
যথা সময়ে মেয়েটা আসে এবং তাদের বাসায় উঠে। বিনিময়ে হারাতে হয় ছেলেটার বেড রুম। এই নিয়ে ছেলেটা মন খারাপ হলেও পরে মানিয়ে নেয়। এবার আসা যাক মেয়ের চরিত্রে। মেয়েটি কলকাতায় এসে কিছুটা অসুবিধাই পড়ে। বাসায় ওয়াইফাই না থাকার জন্য। একাকিত্ব মেয়েটার প্রধান সমস্যা। কারণ মেয়েটার পিতা মাতা আলাদা হয়ে যায় নিজ নিজ স্ট্যাটাসের কারণে। সে ক্ষেত্রে তার পিতা মাতা তার কথা চিন্তা করেনি। অন্য দিকে কলকাতার পরিবারে দেখি, ছেলের জন্য মা বাবার যত চিন্তা। এই ক্ষেত্রে আমরা সমাজের দুটি দিক দেখতে পাই। একদিকে অবাধ স্বাধীনতা অন্য দিকে অতি সচেনতার আড়ালে পরাধীন জীবন। এক সময় কলকাতার ছেলে এবং দিল্লীর মেয়েটার সাথে ভালো বন্ধুত্ব হয়। মেয়েটা ছেলেটার ইচ্ছা পূরণের জন্য সাহায্য করে। অবশ্যই সে জন্য মেয়েটিকে কলকাতার পরিবারের কিছু খারাপ কথা শুনতে হয়। একদিন ছেলেটার কাছে ফোন আসে মঞ্চে গান প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশগ্রহণ করার জন্য। অন্য দিকে কলকাতার মেয়েটি একটি ছেলেকে ভালোবাসতো। মেয়েটি প্রায় সময় মোবাইল এ কথা বলতো কিন্তু ছেলেটা মেয়েটার সাথে বেশি কথা বলতে চাইতো না। একদিন মেয়েটা ফোন করে জানতে পারে ছেলেটা তার সাথে প্রতারণা করে। তখন মেয়েটা হতাশ হয়ে তার আপন মা বাবা কে ফোন করে। কিন্তু মা বাবার ব্যাস্ততার কারণে মেয়ে তাদের সাথে কথা বলতে চাইলেও পারে না। তখন মেয়েটার একাকিত্ব তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। এদিকে ছেলেটি মেয়েটির এই অবস্থা দেখে অনেকটা আবেগী হয়ে যায়। এক সময় সে তার ইচ্ছা পুরণের জন্য পিতা মাতার মুখোমুখি হয়। চলে ছেলের চাওয়া পাওয়া এবং পিতা মাতার কাসে আসা নিয়ে তর্কাতর্কি। এক সময়ে ছেলে পিতার মতের বিরোধে গিয়ে ইচ্ছা পূরণের মঞ্চে একাই যায়। মঞ্চে গিয়ে তার সেই না বলার ভালোবাসাকে কাছে পায়।
অভিনয়
ঋতব্রত মুখোপাধ্যায় অভিনয় করেছে কিশোরের চরিত্রে৷ বাবা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় সিনেমাতেও তার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছেন। মায়ের ভূমিকায় রয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য। পরিচালনায় মৈনাক ভৌমিক। প্রযোজনায় এসভিএফ। অভিনয়ে রয়েছেন সৌরসেনী মিত্র, লিলি চক্রবর্তী, অগ্নিভ মুখোপাধ্যায়, নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রজিৎ দেব, দীপ্তরূপ বসু, শমিতা সাহা, অরিত্র সেনগুপ্ত, অভিরূপ চক্রবর্তী, পূষণ দাশগুপ্ত, অনুষা বিশ্বনাথন, রিমিতা রায়চৌধুরী, রাজদীপ ঘোষ, রুণা রায়চৌধুরী ও অন্যরা। সিনেমাটিতে সুরকার হিসাবে কাজ করেছেন অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।