নাম: সোনম কাপুর
জন্ম: ৯ জুন, ১৯৮৫
জন্মস্থান: মুম্বাই, ভারত
পেশা: অভিনয়শিল্পী

 

অভিনন্দন সোনম। নিরজার পরে ‘প্যাডম্যান’ ছবিটি আপনার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। খুব তাড়াতাড়ি আপনার অগ্রগতি হচ্ছে। যদিও আপনি এখনো তরুণ।

ধন্যবাদ। আমি কিন্তু এখন আর তরুণ নই। এই সাফল্যের জন্য আমি রাম মাধবানী ও আর বালকির মতো পরিচালকদের ধন্যবাদ দিতে চাই। যারা নিরজা ও প্যাডম্যান এর মতো ছবিগুলো বানাতে পারেন। আমি পরিচালকের অধীনে অভিনয় করা অভিনয়শিল্পী। নিরজা ছবিটিতে পুরোটাই আমি অভিনয় করেছি। আর ভাগ মিলখা ভাগ ছবিতে কিছু সময়ের জন্য। এখন প্যাডম্যান ছবিটিও সম্পূর্ণ আমার অভিনীত নয়। কিন্তু এই ছবিতে অভিনয় করাটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ এটি একটি সামাজিক ইস্যুকে তুলে ধরেছে। সিনেমাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম ভাবার কোনো কারণ নেই । এটা আমার কাছে গভীর কিছু। অবশ্যই সিনেমা হওয়া উচিত এমন কিছু-যেখানে কিছু ভালো সময় কাটানো যাবে।

এমন কেন বলছেন?
 

কারণ আমরা নারীরা খুবই কঠিন সময় পার করছি। আমাদের যাদের কাছে কথা বলার একটি জায়গা আছে। তাদের উচিত সেটি ব্যবহার করা। প্যাডম্যান ছবিটি নারীদের মাসিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আমাদের দেশে নারীদের জন্য এটি বড় একটি ইস্যু। প্যাডম্যান ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি একবারেই ‘ইয়েস’ বলেছি। এই ছবিতে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।

অভিনেতা ফারহান আখতার বলেছিলেন, তিনি আর নেতিবাচক চরিত্র করবেন না এই খারাপ সময়ে। যে চরিত্রগুলো নেতিবাচক ইমেজ সেট করে দেয়। তিনি আর ধর্ষক ও শিশু যৌন হেনস্তাকারী চরিত্রে অভিনয় করবেন না। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য এটা চ্যালেঞ্জের। আপনি কী বলেন?
 
আমি এটা মনে করি না যে একটি নেতিবাচক চরিত্র সিনেমার একটি চরিত্রকে বিখ্যাত করে না। কিংবা শিল্পীর বাস্তব ক্যারিয়ারে নেতিবাচক ইমেজ সৃষ্টি করে। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমরা একটি সংবেদনশীল স্থানে আছি। যখন আমি একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করি তখন আমি বাস্তব জীবনে আমার ব্যক্তিগত আদর্শকেও দেখাতে হবে। আর এটা অবশ্যই একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য চ্যালেঞ্জের।
‘ভিরে দি ওয়েডিং’ ছবিতে আপনাকে কারিনা কাপুর খান, স্বরা ভাস্কর, শিখা তালসানিয়াদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে?

না আমি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নই। যদি আমি তাই হতাম, তবে আমার ক্যারিয়ারের ভাগ্য ভিন্নভাবে গড়ত। আমরা মেয়েরা ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ ছবির শুটিংয়ে প্রচুর মজা করেছি। আমি কারিনা কাপুরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছি। আমি অবশ্যই তাকে সম্মান করি। সে খুবই সুন্দরী। কিন্তু সেদিকে তাকানোর তার সময়ই নেই ।

বাবার সঙ্গেও প্রথবারের মতো অভিনয় করলেন?
 

হ্যা। যশ ফিল্মের ব্যানারে ছবিটির এখন শুটিং করছি। আমরা দুটি বিজ্ঞাপন একসঙ্গে করেছি। কিন্তু দুজনের একসঙ্গে এটাই প্রথম ছবি। তবে আপনাকে বলি। শুটিংয়ের সময়ে বাবা অন্য মানুষ হয়ে যান। যেটা ঠিক ঘরের বাবা নন।

প্যাডম্যান ছবিতে আপনার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনিল সিনহা। সেখানে আপনাদের বাবা মেয়েরে সম্পর্কটা দারুণ। এটা কি ঘরের বাবা-মেয়ের সম্পর্ক থেকে ধার করেছিলেন?
 

না। আমি তা করিনি। ওই সম্পর্কটি ওরকমভাবেই পাণ্ডুলিপিতে লেখা ছিল। আর আমার সহশিল্পীতো দারুণ অভিনেতা। আমার থেকে তুখোড় অভিনেতাদের সঙ্গে অভিনয় করতে ভালোবাসি। এটাই শেখার একমাত্র জায়গা।

আপনার চরিত্র পরী মূল চরিত্রকে সবসময় উৎসাহ দেয়। এবং এটা কেন একটি নারী চরিত্র হতে হবে ? আপনি কি ভেবেছেন ? আপনার চরিত্রটিই মূল চরিত্র হতে পারত?
 
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রত্যেক পুরুষের সফলতার পেছনে একজন নারী থাকেন। এ কারণেই চরিত্রটি নারী। প্রত্যেক সফল নারী ও পুরুষের পেছনে একটি সহযোগিতার ব্যাপার থাকেই ।
 
নারীদের ঋতুস্রাবের বিষয়টি এখনো আমাদের ঘরের মধ্যেই আটকে আছে। ছবিটি দেখালো কীভাবে এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক ব্যাপার।
 
এটা একটি সামাজিক অবস্থ। আমরা এই বিষয়টিকে পারিবারিক পরিবেশে বলতে অভ্যস্ত। আমি আশা করি এই ছবির মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথাবার্তা বলা যাবে।
 
সূত্র: আইএএনএস